NEET বাতিল হতেই ফাঁস হাড়হিম করা তথ্য! ৭ রাজ্যে ছড়িয়েছিল প্রশ্নপত্র, মাস্টারমাইন্ড কি খোদ বিজেপি নেতা?

দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ মেডিকেল পড়ুয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল এক চরম দুঃসংবাদে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগের ভিত্তিতে বাতিল করে দেওয়া হলো নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ পরীক্ষা। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মেলায় কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তের ভার তুলে দিয়েছে সিবিআই-এর (CBI) হাতে। তবে এই বাতিলের ঘটনা নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গণ্ডি পেরিয়ে এখন রাজস্থানের রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত রাজস্থানের বিরোধী দলনেতা টিকরাম জুলির একটি বিস্ফোরক দাবি ঘিরে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিট কেলেঙ্কারিতে ধৃত দীনেশ বিনওয়ালের একটি পোস্টার শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, ধৃত ব্যক্তি আসলে জয়পুর গ্রামীণ ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার জেলা মন্ত্রী। জুলির প্রশ্ন, “অভিযুক্ত বিজেপি নেতা বলেই কি রাজস্থান সরকার ৯ দিন ধরে এফআইআর দায়ের না করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল?” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও এই সুরে সুর মিলিয়েছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, রাজস্থান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দুই সপ্তাহ ধরে অনিয়ম গোপন রেখে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করেছে।

তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের জাল ছড়িয়েছিল দেশের সাতটি রাজ্যে। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর তা হরিয়ানার গুরুগ্রামের একটি শক্তিশালী চক্রের হাতে পৌঁছায়। সেখান থেকেই মোটা টাকার বিনিময়ে তা বিভিন্ন রাজ্যে বিক্রি করা হয়। রাজস্থানের ক্ষেত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুরের জামওয়ারামগড়ের বাসিন্দা দুই ভাই দীনেশ ও মঙ্গিলাল ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই প্রশ্নপত্র কেনেন। এরপর তাঁরা সেই প্রশ্ন সিকারে তাঁদের আত্মীয়দের দেন এবং আরও অনেকের কাছে চড়া দামে বিক্রি করেন।

রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG) জানিয়েছে, পরীক্ষার আগে রসায়নের একটি ‘গেস পেপার’ শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল যাতে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মূল প্রশ্নপত্রের ১২০টি প্রশ্ন হুবহু সেই গেস পেপারের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। এদিকে নাসিক পুলিশও এই ঘটনায় একজনকে আটক করেছে। সিবিআই ইতিমধ্যেই ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, তথ্যপ্রমাণ ধ্বংস এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা রুজু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্পেশাল টিম পাঠিয়েছে।

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) জানিয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে এই ঘোষণাতেও পড়ুয়াদের ক্ষোভ কমছে না। এনটিএ-র যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন মেডিকেল পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই পরীক্ষা দিল্লি এইমস (AIIMS)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা হোক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy