MBA-ছাত্রীকে খুনের পর লাশের পাশে বসেই মদ্যপান, তারপর যা করল প্রেমিক…?

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে এক এমবিএ ছাত্রীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে, যা শুনে পুলিশ আধিকারিকদেরও রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার জোগাড়। সিসিটিভি ফুটেজ, ইউটিউব সার্চ হিস্ট্রি এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি— সব মিলিয়ে এক বিকৃত মানসিকতার চরম নিদর্শন দেখল দেশ।

ঘটনার সূত্রপাত ১০ ফেব্রুয়ারি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক গত ১০ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পর ওই যুবক একাই একটি বড় ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিয়ে এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল অশান্তি বাধে। অভিযোগ, যুবক প্রথমে তরুণীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে এবং পরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিথর দেহে একাধিক আঘাতও করা হয়।

লাশের পাশে মদ্যপান ও বিকৃত আচরণ তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, হত্যার পর ওই যুবক পালানোর বদলে মৃতদেহের পাশেই বসে মদ্যপান করে। এমনকি লাশের সঙ্গে চরম বিকৃত আচরণ করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, তরুণীর ফোন থেকে তাঁর একাধিক ব্যক্তিগত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার হীন চেষ্টা চালায় ওই যুবক।

ইউটিউবে ‘আত্মা’ ডাকার খোঁজ! খুনের পর অভিযুক্ত মুম্বইয়ে পালিয়ে যায় এবং সেখান থেকে পানভেলে পুলিশের জালে ধরা পড়ে। পুলিশি জেরায় সে দাবি করেছে, পালানোর সময় সে অনুতপ্ত ছিল এবং ইউটিউবে ‘কীভাবে আত্মা ডাকতে হয়’ তা সার্চ করছিল। সে নাকি প্রেমিকার আত্মার কাছে ক্ষমা চাইতে চেয়েছিল!

তদন্তে ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রমাণ পুলিশের ধারণা, চরম প্রতিহিংসা এবং অসুস্থ মানসিকতা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অভিযুক্তের মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে এই মামলার চার্জশিট দ্রুত গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইন্দোর পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy