বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ ঘনাতেই ভারতে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগান নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। এই ‘প্যানিক বাইং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত বুকিংয়ের সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু চক্র কালোবাজারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার পশ্চিমবঙ্গসহ সবকটি রাজ্যকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।
কেন তৈরি হলো এই হাহাকার?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব সুজাতা শর্মা এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, দেশে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুত রয়েছে। কিন্তু গুজবের জেরে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিলিন্ডার বুক করতে শুরু করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে:
-
প্রতিদিন গড়ে ৫০-৫৫ লক্ষ সিলিন্ডার বুক হতো।
-
বর্তমানে সেই সংখ্যা লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ লক্ষে।
-
অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২৫ লক্ষ অতিরিক্ত বুকিং হচ্ছে, যা বন্টন ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে।
কালোবাজারি রুখতে ‘অ্যাকশন মোড’-এ কেন্দ্র
গ্যাসের অবৈধ মজুত এবং চড়া দামে বিক্রি রুখতে রাজ্য সরকারগুলিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও কর্ণাটকে ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে অবৈধ গুদাম সিল এবং সিলিন্ডার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এমনকি ঝাঁসিতে একটি আস্ত সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাক চুরির ঘটনাও ঘটেছে, যা পরে উদ্ধার করা হয়। গ্রাহকদের সহায়তার জন্য তেল সংস্থাগুলির কল সেন্টারে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০০ করা হয়েছে।
কলকাতায় লালবাজারের নজরদারি
পশ্চিমবঙ্গেও গ্যাসের সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কলকাতায় কালোবাজারি রুখতে সক্রিয় হয়েছে লালবাজার। শহরের প্রতিটি ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনারদের (DC) সতর্ক করা হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় ডিলারদের গুদামে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে থানাগুলিকে, যাতে কেউ কৃত্রিম অভাব তৈরি করতে না পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি পরামর্শ:
১. আতঙ্কে বুকিং নয়: আপনার সিলিন্ডার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত বুকিং করবেন না। ২. গুজবে কান দেবেন না: দেশে গ্যাসের ঘাটতি নেই, সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত চাহিদায়। ৩. অভিযোগ জানান: যদি কোনও ডিলার বেশি দাম চায় বা সিলিন্ডার দিতে অস্বীকার করে, তবে সরাসরি সরকারি হেল্পলাইন বা স্থানীয় থানায় জানান।