পাকিস্তানের কাসুর জেলায় লস্কর-ই-তৈবা (LeT) জঙ্গি সংগঠনের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা শেখ মুয়াজ মুজাহিদকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী। গত রাতে তাঁর বাড়ির বাইরে মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্কের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
মুয়াজ ছিলেন ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং LeT-এর পাঞ্জাব প্রদেশের সামরিক অভিযানের দায়িত্বশীল নেতা।
আইএসআই-এর অক্ষমতায় উদ্বিগ্ন জঙ্গিরা
প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানের সরকারি সূত্র এবং আইএসআই (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স) এখনও হামলাকারীদের পরিচয় জানতে পারেনি। হামলার ধরন দেখে মনে করা হচ্ছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ রিপোর্ট অনুসারে, হামলাকারীরা ‘অ্যাকিউরেট শুটিং’ করে মুয়াজের মাথা এবং বুকে গুলি করে, এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এই ধরনের রহস্যজনক হত্যা পাকিস্তানে জঙ্গি নেতাদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তারা এখন নিরাপত্তা দাবি করছে, কিন্তু হামলাকারীদের ধরতে আইএসআই-এর অক্ষমতা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। স্থানীয় সাক্ষীরা জানান, “গুলির শব্দ শুনে আমরা সবাই ভয়ে কাঁপছিলাম। তারা পালিয়ে গেল, কোনো চিহ্ন রাখল না।”
কে ছিলেন শেখ মুয়াজ মুজাহিদ?
মুয়াজ মুজাহিদ ছিলেন LeT-এর একজন অত্যন্ত সক্রিয় এবং কুখ্যাত জঙ্গি। ১৯৮০-এর দশকে লাহোরে জন্মগ্রহণকারী মুয়াজ হাফিজ সাঈদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে LeT-এর সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
মুম্বই হামলায় ভূমিকা: মুম্বই হামলায় মুয়াজ ছিলেন অপারেশনের লজিস্টিকস এবং রিক্রুটমেন্টের দায়িত্বশীল।
অপারেশনাল দায়িত্ব: তিনি পাকিস্তান-ভারত সীমান্তে অপারেশনের কমান্ডার ছিলেন এবং LeT-এর এয়ার উইং এবং মেরিন ট্রেনিং-এরও দায়িত্বে ছিলেন।
আন্তর্জাতিক টার্গেট: আমেরিকার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ২০১২ সালে তাঁকে ‘টার্গেট’ করে এবং ভারত তাঁকে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সন্ত্রাসীদের তালিকায় রাখে।
সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পাঞ্জাবে LeT-এর নতুন রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন, যা ভারতের বিরুদ্ধে আরও হামলার পরিকল্পনার অংশ ছিল। মুয়াজের মৃত্যু LeT-এর জন্য বিরাট ধাক্কা, কারণ হাফিজ সাঈদের মতো বয়স্ক নেতাদের অনুপস্থিতিতে তিনিই ছিলেন সক্রিয় অপারেশনের মূল স্তম্ভ। এই রহস্যজনক হত্যা পাকিস্তানের জঙ্গি ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ শত্রুর ছায়া পড়েছে।