মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের কাছে ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হলো এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড বা EPF। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য কিছু পরিকল্পনা করলে এই সরকারি তহবিল থেকেই আপনি অবসরের সময় প্রায় ৮০ লাখ টাকার মালিক হতে পারেন? অবাক মনে হলেও এটাই বাস্তব। সঠিক সময়ে সঞ্চয় শুরু করলে কম্পাউন্ডিং-এর জাদুতে এটি অনায়াসেই সম্ভব।
৫০০০ টাকার ম্যাজিক: কীভাবে সম্ভব?
ইপিএফ ক্যালকুলেটর অনুযায়ী, যদি কোনো চাকরিজীবী মাসে মাত্র ৫০০০ টাকা (কর্মীর নিজের অংশ এবং নিয়োগকর্তার অংশ মিলিয়ে) পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারেন, তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে এটি এক বিশাল তহবিলে পরিণত হয়।
হিসেবটি ঠিক কেমন?
ধরা যাক, একজন কর্মীর বয়স ২৫ বছর এবং তিনি প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা জমা করছেন। বর্তমানে ইপিএফ-এ সুদের হার ৮.২৫%।
বিনিয়োগের সময়কাল: ৩৫ বছর (২৫ বছর থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত)।
মোট জমা: এই দীর্ঘ সময়ে তিনি মোট ২১ লাখ টাকা জমা করবেন।
সুদের পরিমাণ: চক্রবৃদ্ধি হারের (Compounding) জেরে সুদের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা।
ম্যাচিউরিটি ভ্যালু: ৬০ বছর বয়সে ওই ব্যক্তির হাতে আসবে প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
কেন ইপিএফ সেরা বিনিয়োগ?
১. নিরাপত্তা: এটি সম্পূর্ণ ভারত সরকার পরিচালিত স্কিম, তাই টাকা ডুবে যাওয়ার ভয় নেই। ২. চক্রবৃদ্ধি সুদ: প্রতি বছর সুদের ওপর সুদ যোগ হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বড় রিটার্ন পাওয়া যায়। ৩. করমুক্ত সুবিধা: নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইপিএফ-এ জমানো টাকা এবং ম্যাচিউরিটি রিটার্ন ইনকাম ট্যাক্স থেকে ছাড় পায় (EEE ক্যাটাগরি)।
মনে রাখার বিষয়:
যদি আপনার বেতন প্রতি বছর বাড়ে (যা সাধারণত হয়), তবে আপনার পিএফ কন্ট্রিবিউশনও বাড়বে। সেক্ষেত্রে ৮০ লাখ নয়, এই অঙ্ক এক কোটিও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই সঞ্চয় যত দ্রুত শুরু করবেন, রিটার্ন তত বেশি পাবেন।





