E20-পেট্রোলে কি সত্যিই মাইলেজ কমছে? মুখ খুলল কেন্দ্র, জেনে নিন আসল সত্যিটা!

দেশজুড়ে E20 পেট্রোল (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি) বাধ্যতামূলক করার পর থেকেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় গাড়ি ও বাইকচালকদের একাংশ অভিযোগ করছেন, এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমেছে প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি। পাশাপাশি ইঞ্জিনের ক্ষতি নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে এবার সরাসরি মুখ খুলল কেন্দ্রীয় সরকার।

মাইলেজ কি সত্যিই কমছে? কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করে নিয়েছে যে, সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে মাইলেজ সামান্য কমতে পারে। তবে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই হ্রাসের হার বড়জোর ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে। কেন্দ্রের দাবি, E20 পেট্রোলের ‘অক্টেন রেটিং’ সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে বেশি। এর ফলে ইঞ্জিনের দহন প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হয়, গাড়ি ভালো পিকআপ নেয় এবং ইঞ্জিন পরিষ্কার থাকে। ফলে সামান্য মাইলেজ কমলেও, তা দীর্ঘমেয়াদে গাড়ির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

দাম কেন কমছে না? অনেকেরই প্রশ্ন ছিল, পেট্রোলে তুলনামূলক সস্তা ইথানল মেশানোর পরেও জ্বালানির দাম কমছে না কেন? এর উত্তরে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছে, ইথানল মেশানোর মূল উদ্দেশ্য জ্বালানির দাম কমানো নয়, বরং দেশের ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’ সুনিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের তুলনায় ইথানল প্রক্রিয়াকরণ এবং পরিকাঠামো তৈরির খরচ বেশ বেশি। এছাড়া কৃষকদের থেকে ন্যায্য মূল্যে ইথানলের কাঁচামাল সংগ্রহের বিষয়টিও এর সাথে যুক্ত।

পুরনো গাড়ির কি বিপদ? ইঞ্জিন বিকল হওয়ার যে দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তাকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সরকার। কেন্দ্রের মতে, ‘অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’ (ARAI) এবং গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর (SIAM) দীর্ঘ গবেষণার পরেই এই জ্বালানি বাজারে ছাড়া হয়েছে। যদি বিপদের আশঙ্কা থাকত, তবে কোম্পানিগুলো গাড়ির ওয়ারেন্টি দিত না।

কেন এই উদ্যোগ? দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে নতুন পরিকাঠামো তৈরি করতে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে দেশের স্বার্থে এই জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।