রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলা নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল আইনি আঙিনা। আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা। ঠিক তার আগেই, গত ৮ এপ্রিল শীর্ষ আদালতে একটি নতুন পিটিশন দাখিল করল রাজ্য সরকার। নবান্নের এই হঠাৎ পদক্ষেপে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
হঠাৎ কেন এই পিটিশন? রাজ্য সরকার ঠিক কী কারণে এই নতুন পিটিশন দাখিল করেছে, তা এখনও বিস্তারিতভাবে খোলসা করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, আগামী ১৫ বা ১৬ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। সেই শুনানির প্রস্তুতি হিসেবেই কি এই পদক্ষেপ, নাকি বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়ায় কোনও পরিবর্তনের আবেদন—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় এই পিটিশনের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত ডিএ-র স্থিতি কী? সুপ্রিম কোর্টের গত ৫ ফেব্রুয়ারির কড়া নির্দেশের পর রাজ্য সরকার বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল:
২৫ শতাংশ বকেয়া: শীর্ষ আদালত দ্রুত ২৫ শতাংশ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্য সরকার দুই কিস্তিতে এই টাকা মেটানোর কথা জানায়, যার প্রথম কিস্তির কাজ শুরু হয়েছে।
পরবর্তী কিস্তি: বকেয়া মেটানোর দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়ার কথা জানিয়েছে নবান্ন।
বাকি ৭৫ শতাংশ: বকেয়া মহার্ঘ ভাতার বাকি ৭৫ শতাংশ কীভাবে মেটানো সম্ভব, তা খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে আদালত।
কেন চিন্তিত সরকারি কর্মীরা? দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে লড়াই চালাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকার বারবার আইনি পথে টালবাহানা করে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আগামী সপ্তাহের শুনানিতে বিচারপতিরা বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।
শুনানির অপেক্ষায় দিল্লি: আগামী ১৫ বা ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করবে। কমিটির রিপোর্ট এবং রাজ্যের নতুন পিটিশন—সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহটি রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।





