প্রতীক উর রহমানের দলবদল নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই পাল্টা চাল দিতে কোমর বেঁধে নামছে আলিমুদ্দিন। দলত্যাগের ‘বিড়ম্বনা’কে গুরুত্ব না দিয়ে বরং রুজি-রুটির লড়াইকে অস্ত্র করেই বিধানসভা ভোটে শূন্য কাটাতে মরিয়া সিপিএম। সূত্রের খবর, প্রার্থী তালিকায় এবারও অভিজ্ঞতার চেয়ে ‘তরুণ তুর্কী’দের ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন মহম্মদ সেলিমরা।
জোটের সমীকরণ ও আসন রফা এবার কংগ্রেস সাথে না থাকলেও নওশাদ সিদ্দিকির ISF এবং লিবারেশন-সহ একাধিক বামপন্থী ছোট সংগঠনকে নিয়ে জোট প্রায় নিশ্চিত। সূত্রের খবর:
-
CPIM: ১০০-র বেশি আসনে লড়তে পারে।
-
ISF: দাবি ৫০টি আসনের হলেও রফা হতে পারে কিছুটা কমে।
-
CPI, ফরোয়ার্ড ব্লক ও RSP: যথাক্রমে ২০, ২৬-২৮ এবং ১৯টি আসনে লড়তে পারে।
এক নজরে নজরকাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকা: আলিমুদ্দিনের অন্দরমহলে যে নামগুলো নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে:
-
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়: উত্তরপাড়া
-
সুজন চক্রবর্তী: যাদবপুর
-
সৃজন ভট্টাচার্য: কসবা
-
শতরূপ ঘোষ: দমদম উত্তর
-
দীপ্সিতা ধর: বালি
-
সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়: সোনারপুর দক্ষিণ
-
কলতান দাশগুপ্ত: বালিগঞ্জ
-
ঐশী ঘোষ: জামুরিয়া
-
সায়রা শাহ হালিম: এন্টালি
স্টার ও হেভিওয়েট ফ্যাক্টর: সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে বাদশা মৈত্র এবং জাকির হোসেন মল্লিকের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও তালিকায় থাকতে পারেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবদূত ঘোষ এবং সৌরভ পালোধীর মতো পরিচিত মুখ। অভিজ্ঞদের মধ্যে মহম্মদ সেলিম ও বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের লড়াই করার সম্ভাবনাও প্রবল।
রণকৌশল: বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ মার্চ মাস থেকেই পূর্ণশক্তিতে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। প্রতীকের দলবদল ক্যাডারদের মনে যাতে প্রভাব না ফেলে, তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়েও সরাসরি জনসংযোগ বা ‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেইনে জোর দিচ্ছে বামেরা। ঝাড়াই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা দিল্লির একে গোপালন ভবনে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে খুব শীঘ্রই।