CPIM-এর কাস্তে-হাতুড়িতে মনোনয়ন RCPI প্রার্থীর! চৌরঙ্গীতে বামফ্রন্টের অন্দরে চরম কেলেঙ্কারি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে যখন শাসক ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে, ঠিক তখনই চরম সাংগঠনিক বিভ্রাটের মুখে পড়ল বামফ্রন্ট। কলকাতা উত্তরের চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্টের প্রার্থী নিয়ে তৈরি হলো এক অদ্ভুত ও হাস্যকর পরিস্থিতি। জানা গিয়েছে, বামফ্রন্টের শরিক দল আরসিপিআই (RCPI)-এর প্রার্থী সিপিএমের ‘কাস্তে-হাতুড়ি-তারা’ প্রতীকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের কর্তারা।

কীভাবে ঘটল এই বিপত্তি? দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্টের নীতি অনুযায়ী, ছোট শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা অনেক সময় বড় শরিক সিপিএমের প্রতীকে লড়াই করেন। কিন্তু চৌরঙ্গী কেন্দ্রে এবার আরসিপিআই-এর নিজস্ব প্রতীক বা অন্য কোনো সমঝোতার বদলে সরাসরি সিপিএমের প্রতীকে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রার্থী যখন মনোনয়ন পত্র পেশ করেন, তখন ফর্মে প্রতীক হিসেবে সিপিএমের নাম এবং চিহ্ন উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায় বাম শিবিরের অন্দরে।

অস্বস্তিতে বাম নেতৃত্ব: এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ সিপিএমের একাংশ। তাঁদের দাবি, এতে দলীয় স্বকীয়তা নষ্ট হচ্ছে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। অন্যদিকে, আরসিপিআই-এর তরফে জানানো হয়েছে, এটি কারিগরি ভুল না কি রণকৌশলের অংশ, তা নিয়ে দলের শীর্ষ স্তরে আলোচনা চলছে। চৌরঙ্গীর মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এই ধরণের ‘প্রতীক-বিভ্রাট’ যে প্রচারের শুরুতেই বামেদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

বিরোধীদের কটাক্ষ: এই ঘটনাকে হাতছাড়া করতে ছাড়েনি তৃণমূল ও বিজেপি। শাসক দলের নেতাদের কটাক্ষ, “যাঁরা নিজেদের প্রতীক ঠিক রাখতে পারেন না, তাঁরা রাজ্য চালাবেন কীভাবে?” অন্যদিকে বিজেপির দাবি, “বামফ্রন্ট এখন আইসিইউ-তে, তাই প্রার্থীরা নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে বড় দলের প্রতীক ধার করছেন।”

ভবিষ্যৎ কী? এখন প্রশ্ন উঠছে, এই মনোনয়ন কি প্রত্যাহার করা হবে নাকি আরসিপিআই প্রার্থী শেষ পর্যন্ত সিপিএমের নামেই লড়বেন? স্ক্রুটিনির সময় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে বামেদের এই ঘরোয়া বিবাদ যে প্রচারের ময়দানে নতুন অস্ত্র তুলে দিল বিরোধীদের হাতে, তা স্পষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy