ভারতে করোনা সংক্রমণ ক্রমেই দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯৮ জন, যার জেরে ভারতে মোট সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬৪। একদিনে করোনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪ হাজার ৭২৪ জন।
রাজ্যভিত্তিক চিত্র: শীর্ষে কেরল, উদ্বেগজনক মহারাষ্ট্র-গুজরাট-দিল্লি
দেশের মধ্যে করোনার দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে কেরলে, যেখানে সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৬৭৯। এরপরই রয়েছে গুজরাট, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬১৫। দিল্লিতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৫৯২ জন এবং মহারাষ্ট্রে ৫৪৮ জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এই রাজ্যগুলোতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলার পরিস্থিতি: ৫০০ ছাড়ালো সক্রিয় কেস, নতুন ঢেউয়ে ১ মৃত্যু
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৫৮ জন। এর ফলে রাজ্যে মোট সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯৬ জন। করোনার নতুন ঢেউয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা রাজ্যবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
JN.1 সাব-ভেরিয়েন্ট: কোন উপসর্গগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে কোভিডের যে JN.1 সাব-ভেরিয়েন্ট দ্রুত ছড়াচ্ছে, তাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের কথা জানিয়েছেন। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
গলা ব্যথা
ঘুমের সমস্যা
সর্দি
কাশি
মাথাব্যথা
দুর্বলতা বা ক্লান্তি
পেশীতে ব্যথা
চিকিৎসকদের মতে, “কাশি, গলা ব্যথা, হাঁচি, ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা হল সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন কিছু লক্ষণ। তবে এগুলো সাধারণ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণও হতে পারে, তাই সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য আগে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।” বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে কাশি, গলা ব্যথা, হাঁচি, ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা দেখা গিয়েছে।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন? স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরামর্শ
করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে:
যাদের করোনায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি (যেমন বয়স্ক ব্যক্তি, যাদের কো-মর্বিডিটি আছে), তাদের জনসমক্ষে মাস্ক পরা উচিত।
যাদের কোভিডের উপসর্গ রয়েছে, তাদের দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে যেসব রোগীর উপসর্গ রয়েছে, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনার পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়েছে।
নিয়মিত হাত ধোওয়া এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে মাস্ক পরার মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। সময়মতো পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই নতুন ঢেউ মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।