সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র যাচাই ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ উঠছিল বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই সিবিএসই কর্তৃপক্ষ বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র যাচাই (Verification) এবং পুনর্মূল্যায়নের (Re-evaluation) আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে দিল।
বোর্ডের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা এখন ৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়ার আগের সময়সীমা ছিল ৬ জুন শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত। বোর্ডের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পান।
গত ২ জুন থেকে বোর্ডের অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু শুরু থেকেই পোর্টাল সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ তোলেন পরীক্ষার্থীরা। বিশেষ করে, আধারের মাধ্যমে যাচাইকরণ এবং অনলাইন পেমেন্ট বা ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতার অভিযোগ সামনে আসে। বহু পড়ুয়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান যে, উত্তরপত্র যাচাই ও স্ক্যান কপি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের দীর্ঘ ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে এই সময়সীমা বৃদ্ধির ঘোষণা করার পর অনেকেই কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেছে, তারা যেন সংশোধিত সময়সূচি মেনে দ্রুত আবেদন সম্পন্ন করে। তবে প্রশ্ন উঠছে, আধারের মাধ্যমে যাচাইকরণ এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত যে প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে, তা আদৌ পুরোপুরি মিটবে কি না। বোর্ডের পোর্টালটি কতটা স্থিতিশীলভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মনে এখনও সংশয় রয়ে গেছে। তবুও অতিরিক্ত এই সময়ের সুযোগ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী যারা এতদিন পোর্টালের সমস্যার জন্য আবেদন করতে পারেননি, তারা এখন স্বস্তির সঙ্গে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
যারা নিজের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট নন বা মনে করছেন কোথাও কোনো ভুল ত্রুটি রয়ে গেছে, তারা এই শেষ সুযোগটি ব্যবহার করুন। প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সাবধানে করার পরামর্শ দিচ্ছে বোর্ড, যাতে পেমেন্ট বা তথ্যের গরমিল না হয়। সময়সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে অভিভাবক মহল।





