কলকাতা ময়দানের শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিংয়ে পরিবর্তনের হাওয়া। আর্থিক সঙ্কট এবং একের পর এক ব্যর্থতার জেরে অবশেষে ক্লাবের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আমিরউদ্দিন ববি। তাঁর জায়গায় ক্লাবের নতুন অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবের দায়িত্ব বুঝে নেবেন তিনি।
গত দুই মরশুম ধরে চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সাদা-কালো ব্রিগেড। আর্থিক অনটন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ফুটবলারদের বেতন মেটাতে ব্যর্থ হয় ক্লাব। বিদেশি ফুটবলারদের বকেয়া পাওনা নিয়ে ফিফার দ্বারস্থ হওয়ায় ক্লাবের ওপর নেমে আসে নিষেধাজ্ঞা, যার ফলে নতুন ফুটবলার সই করানোর অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়। বাঙ্কারহিল ও শ্রাচী স্পোর্টসের মতো বিনিয়োগকারী সংস্থার পারস্পরিক টানাপোড়েনে ক্লাবের অন্দরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল মাঠের পারফরম্যান্সে।
২০২৫-২৬ মরশুমে আইএসএল থেকে অবনমন হয় দু’বছর আগে আই লিগ জয়ী এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের। একটিও ম্যাচ জিততে না পারার ব্যর্থতায় সমর্থকদের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছিল ক্লাব কর্তাদের বিরুদ্ধে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই নড়েচড়ে বসেন ক্লাব কর্তারা। বর্তমানে ক্লাবের মাথায় প্রায় ১৩ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে ক্লাব কর্তারা নওশাদ সিদ্দিকি ও হুমায়ুন কবীরের মতো জননেতাদের সাহায্যের আবেদন জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই অবশেষে হাল ধরছেন হুমায়ুন কবীর।
জানা গেছে, নওদা ও রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ক্লাবে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ ক্লাবে পৌঁছে কার্যকরী কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। এরপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কর্মপন্থা জানাবেন তিনি। যদিও কার্যকরী কমিটির বাকি সদস্যরা অপরিবর্তিত থাকছেন, তবে সভাপতির পদে এই রদবদল ক্লাবের ভাগ্য ফেরাতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ময়দান। এখন দেখার বিষয়, হুমায়ুন কবীরের হাত ধরে সাদা-কালো ব্রিগেড ফের পুরনো গৌরব ফিরে পায় কি না।





