CBI-এর ভূমিকা নিয়ে হাইকোর্টের সন্দেহ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত কি থমকে যাচ্ছে

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে এবার খোদ কলকাতা হাইকোর্টই সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের সব দুর্নীতি মামলার তদন্ত সিবিআই ও ইডি করছে, কিন্তু এই তদন্ত কবে শেষ হবে তা কেউ জানে না। তিনি আরও বলেন, একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু এর সঙ্গে কারা জড়িত তা কীভাবে প্রমাণ করা হবে?


 

আদালতের প্রশ্নবাণ

 

মামলার শুনানিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী মামলাকারীর আইনজীবীকে একাধিক প্রশ্ন করেন:

  • ‘সুবিধাভোগী’ কারা? – আইনজীবী যখন ৩২ হাজার শিক্ষকের একাংশকে ‘সুবিধাভোগী’ বলে দাবি করেন, তখন বিচারপতি জানতে চান, বিশেষ সুবিধা কে পেয়েছেন আর কে পাননি, তা কীভাবে আলাদা করা হবে?
  • প্যানেল প্রকাশের নিয়ম কী? – বিচারপতি প্রশ্ন করেন, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কোন পদ্ধতিতে প্যানেল প্রকাশ করেছে? বিধি মেনে কি প্যানেল তৈরি হয়েছে? আইনজীবী জানান, বিধিতে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। এর উত্তরে বিচারপতি বলেন, “তার মানে পর্ষদ নিজের পছন্দমতো প্যানেল প্রকাশ করতে পারে।”
  • যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা কি সম্ভব? – বিচারপতি দেবাংশু বসাক যেমন এসএসসি মামলায় ‘চাল আর কাঁকড়’ আলাদা করতে না পেরে পুরো প্যানেল বাতিল করেছিলেন, এই মামলাতেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিচারপতি জানতে চেয়েছেন, কীভাবে যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের আলাদা করা হবে?

এই মামলায় আগামী ১১ সেপ্টেম্বর আবার শুনানি হবে। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ হওয়া নিয়ে আদালতের ভেতরেই সন্দেহ দানা বাঁধছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy