রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিকম সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL) কি বেসরকারি হাতে চলে যাচ্ছে? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিল সাধারণ মানুষের মনে। বুধবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে সেই সমস্ত জল্পনা ও আশঙ্কার অবসান ঘটালেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “BSNL-কে বেসরকারীকরণ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই সংস্থা ভারতের জনগণের এবং ভারতের জনগণের জন্যই থাকবে।”
কেন পিছিয়ে ছিল BSNL? খোলসা করলেন মন্ত্রী সিন্ধিয়া জানান, BSNL-এর সামনে দুটি রাস্তা ছিল। হয় বিদেশের (চিন বা ফিনল্যান্ড) থেকে সস্তায় সরঞ্জাম কিনে নেটওয়ার্ক চালানো, অথবা ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি (Digital Stack) তৈরি করা। প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশীয় সক্ষমতা তৈরির ‘সাহসী’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যার ফলে বিশ্বের মাত্র ৪টি দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে ভারত, যারা নিজস্ব টেলিকম সরঞ্জাম তৈরি করে।
পকেটে আসবে ৫জি-র গতি! কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার এখন BSNL-কে শক্তিশালী করতে মরিয়া। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই এই পুনরুজ্জীবনের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে BSNL-এর গ্রাহক সংখ্যা ৮ কোটি ৫৫ লক্ষ থেকে বেড়ে ৯ কোটি ২৭ লক্ষে পৌঁছেছে। মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা প্রথমে 4G নেটওয়ার্ককে স্থিতিশীল করছি, যাতে খুব দ্রুত 5G পরিষেবা চালু করা যায়।”
টাটা-র ওপর ভরসা সরকারের? অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানি যখন বিদেশি প্রযুক্তিতে ৫জি চালাচ্ছে, তখন BSNL সম্পূর্ণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রযুক্তিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও আগে রাজ্যসভায় BSNL-এর পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ প্যাকেজের কথা জানিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে, বিএসএনএল প্রেমীদের জন্য দিনটি ছিল বড়সড় স্বস্তির।