ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের নতুন করে উত্তেজনা। মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম গারো হিলস জেলার মাহেন্দ্রগঞ্জ সেক্টরে এক ব্যক্তিকে ঘিরে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিএসএফ (BSF) ওই ব্যক্তিকে আটক করার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চাইলেও, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) তাকে নিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে বলে খবর।
কী ঘটেছে সীমান্তে? সূত্রের খবর, মাহেন্দ্রগঞ্জের নদীর চর সেক্টর দিয়ে ওই ব্যক্তি ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফ-এর হাতে ধরা পড়েন। প্রাথমিক জেরায় তিনি নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্বীকারও করেছেন। নিয়ম মেনে বিএসএফ ওই ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করলে বিজিবি-র বাধার মুখে পড়ে। শুধু বিজিবি-ই নয়, সীমান্তের ওপার থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিপক্ষে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ।
সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি: বর্তমানে ওই ব্যক্তি দুই দেশের কাঁটাতারের মাঝে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এর কাছাকাছি কোনো এক জায়গায় আটকে রয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের সিকিউরিটি এজেন্সিগুলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে সীমান্তের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত বলে দাবি করা হয়েছে। দুই দেশের বাহিনীর পক্ষ থেকেই সীমান্তে অতিরিক্ত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নিস্তব্ধ দুই বাহিনী: আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে বিএসএফ বা বিজিবি—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়নি। দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীই বিষয়টি নিয়ে জনসমক্ষে নীরবতা পালন করছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (Detect, Delete, Deport) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় তৈরি করা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সরকারি সেই নীতি অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই প্রক্রিয়াকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে।
সীমান্তের এই অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা মহল।





