BNP-র শপথে ভারত! ওম বিরলা যাচ্ছেন ঢাকা, মোদী-তারেক ফোনালাপে কোন নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত? ২. ঢাকার ম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয়। ১৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ঢাকার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই হাই-ভোল্টেজ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় চমক দিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ দূত হিসেবে এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা।

মোদীর বার্তা ও ওম বিরলার সফর: গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করেছিলেন তারেক রহমানকে। প্রায় দীর্ঘ সময় চলা সেই ফোনালাপে মোদী শুধু অভিনন্দনই জানাননি, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি ভারতের আস্থার কথা পুনব্যক্ত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওম বিরলাকে পাঠানো দিল্লির একটি অত্যন্ত কৌশলী পদক্ষেপ। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সাথে মুম্বইয়ে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক থাকায় মোদী নিজে আসতে না পারলেও, ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক ওম বিরলাকে পাঠিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করল ভারত।

কূটনৈতিক নতুন ইঙ্গিত: বিগত কয়েক বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের যে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে আগ্রহী দুই পক্ষই। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই নীতিতে বিশ্বাসী। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, চীন, তুরস্কসহ ১৩টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন। তবে ভারতের লোকসভার স্পিকারের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বিশেষ বার্তা দিচ্ছে।

আজকের এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু সরকার গঠন নয়, বরং ভারতের সাথে বাংলাদেশের আগামীর বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বুনিয়াদ হতে চলেছে। ওম বিরলার সাথে থাকছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রিও। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন সূচনায় তিস্তা চুক্তি বা সীমান্ত সমস্যার মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো কতটা গুরুত্ব পায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy