গাড়ির জগতে বিএমডব্লিউ (BMW) এক আভিজাত্যের নাম। রাস্তার বুক চিরে যখন নীল-সাদা লোগোর এই গাড়িগুলো এগিয়ে যায়, তখন সেদিকে তাকান না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ‘BMW’ অক্ষরের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিশাল ইতিহাস? অধিকাংশ মানুষ ব্র্যান্ডটিকে চিনলেও এর পূর্ণরূপ বা এর শুরুর গল্পটি অনেকেরই অজানা।
BMW-এর পূর্ণরূপ হলো ‘Bayerische Motoren Werke’। ইংরেজি করলে যার অর্থ দাঁড়ায় ‘Bavarian Motor Works’। এখানে ‘Bayerische’ শব্দটি জার্মানির দক্ষিণ অঞ্চলের ‘ব Bavaria’ (Bavaria) প্রদেশকে নির্দেশ করে। আর ‘Motoren Werke’ মানে হলো ইঞ্জিন তৈরির কারখানা। অর্থাৎ, নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর উৎপত্তিস্থল এবং আসল কাজের পরিচয়।
মজার বিষয় হলো, ১৯১৬ সালে যখন এই কোম্পানিটির যাত্রা শুরু হয়, তখন তারা কিন্তু দামী বিলাসবহুল গাড়ি বানাত না! তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিমানের শক্তিশালী ইঞ্জিন তৈরি করা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারে BMW-এর ইঞ্জিনের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক নানা বিধিনিষেধের কারণে কোম্পানিটি বিমানের ইঞ্জিন থেকে সরে এসে মোটরসাইকেল এবং পরে চার চাকার গাড়ি তৈরিতে মনোযোগ দেয়।
আজকের দিনে BMW বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে সুপারবাইক—সবকিছুতেই শীর্ষে থাকলেও, তারা তাদের পুরনো নামটি পরিবর্তন করেনি। Bavaria-র সেই ছোট কারখানাই আজ বিশ্বসেরা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহজে উচ্চারণের জন্য বর্তমানে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হলেও এর আভিজাত্য মিশে আছে সেই জার্মান শিকড়েই।





