ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR 2026) প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ফের বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। যদিও এনুমারেশন ফর্ম আপলোড করার সময়সীমা ৪ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর করা হয়েছে, তবু বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সোমবার, ১ ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের দফতর থেকে এই সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
ব্যাকলগ ক্লিয়ারেন্স: আজই শেষ দিন!
সময়সীমা বাড়লেও, কাজের ‘ব্যাকলগ’ নিয়ে চূড়ান্ত কড়া কমিশন। BLO-দের জন্য জারি করা হয়েছে নতুন নির্দেশিকা:
-
আজই শেষ সুযোগ: ২ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার)-এর মধ্যেই সংগৃহীত সমস্ত ফর্ম এবং যেগুলি বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, সেই সংক্রান্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। জমা পড়ে থাকা কোনও এনুমারেশন ফর্ম ২ ডিসেম্বরের পরে আর গ্রহণ করা হবে না।
-
দৈনিক আপলোড: ৩ ডিসেম্বর থেকে সংগৃহীত ফর্ম প্রত্যেকদিন, সেদিনই আপলোড করতে হবে। কোনও বকেয়া (Backlog) গ্রহণযোগ্য হবে না।
-
দায়ী BLO: গোটা প্রক্রিয়ায় যদি কোথাও কোনও ইচ্ছাকৃত ত্রুটি চিহ্নিত হয়, তার জন্য সরাসরি দায়ী থাকবেন সংশ্লিষ্ট BLO-রা।
যদি কোনো পরিবার ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফর্ম পূরণ করে জমা না দেয়, তবে সেই ফর্মগুলিকে অ্যাপের মাধ্যমে ‘Uncollectable’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।
বিশেষ নজরদারি: ঝুঁকিতে কোন ভোটাররা?
ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে কমিশন কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে:
১. ৬০+ ভোটার: ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নিরিখে যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি (অর্থাৎ বর্তমানে ৮০ পেরিয়েছে), তাঁদের তথ্য আবার বিশেষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। ২. স্পর্শকাতর বুথ: ২০২১ ও ২০২৪ সালে যে বুথগুলি স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল, সেখানে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। ৩. বয়সের ফারাক: আবেদনকারীর সঙ্গে বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান যদি ৪৫ বছরের বেশি অথবা ১৮ বছরের কম হয়, তবে সেই তথ্যের বিস্তারিত তদন্ত করতে হবে। ৪. নামের অমিল: নতুন এন্ট্রিতে অনেক ভোটারের নাম বা বাবার নাম বদলে গিয়েছে। ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে বর্তমান নামের অমিল থাকা সমস্ত ভোটারের তথ্য ফের যাচাই করে দেখতে হবে।
উল্লেখ্য, সোমবারই কমিশন BLO ও ERO-দের এনুমারেশন ফর্মের ভুল এন্ট্রি সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা।