আহমেদাবাদের কাছে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় যখন সকল যাত্রীর বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছিল, তখনই এক অবিশ্বাস্য ঘটনা সামনে আসে। পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক প্রথমে জানিয়েছিলেন, বিমানে থাকা কেউ বেঁচে নেই। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মধ্যেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন রমেশ বিশ্বকুমার নামের এক ব্যক্তি, যিনি ইকোনমি ক্লাসের ১১এ আসনে বসেছিলেন।
দিউ থেকে আসা রমেশ বিশ্বকুমার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে ফোনে জানান, “বিমানটি যখন বিধ্বস্ত হচ্ছিল, তখন আমি লাফ দিই। এরপর যখন উঠে দাঁড়াই, দেখি চারিদিকে শুধু মৃতদেহ।” এই কথা বলার সময় তার কণ্ঠস্বরে স্পষ্ট ছিল দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক এএনআই-কে নিশ্চিত করেছেন, “পুলিশ ১১এ সিটে একজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “মৃতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। বিমানটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
বিমানটি আহমেদাবাদ থেকে ব্রিটেনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কয়েক মিনিট পরেই কাছেই একটি মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলে আছড়ে পড়ে। দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি মেঘানী নগরের বিজে মেডিকেল কলেজের মেস ভবনে আঘাত হানার পর বিমানটি আগুনের গোলায় পরিণত হয়, চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ। ঘটনার পরপরই চারিদিকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়।
রমেশের এই অলৌকিক বেঁচে যাওয়া চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শুধু বিমানে থাকা যাত্রীরাই নন, হোস্টেলে থাকা অনেক ডাক্তারি পড়ুয়াও গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অনেকে মারাও গেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রমেশের বেঁচে থাকা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। কীভাবে তিনি এই ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
রমেশ প্রাণে বেঁচে গেলেও তার শরীরের বেশ কিছু অংশে আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে। এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এই ঘটনা আহমেদাবাদে গভীর শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে, এবং উদ্ধার কাজ জোর কদমে চলছে।





