AI কি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে? Gemini-র রিপোর্ট ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এর বিপদগুলোও সামনে আসছে। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে গুগলের অত্যাধুনিক এআই মডেল ‘জেমিনাই’কে শিশুদের জন্য ‘ক্ষতিকর’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, এআই-এর কারণে ভুল তথ্য ছড়ানো এবং কর্মসংস্থান হারানোর মতো একাধিক উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।

এআই থেকে প্রধান বিপদগুলো কী?

১. কর্মসংস্থান: এআই এবং অটোমেশনের কারণে ভারতের অসংগঠিত ক্ষেত্রের ৯০ শতাংশ কর্মীর জীবিকা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এআই নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করলেও, তার জন্য উচ্চ দক্ষতার প্রয়োজন।
২. ভুয়ো তথ্য: এআই ব্যবহার করে ভুয়ো খবর তৈরি করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে একবার এমন তথ্য ছড়িয়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব।
৩. ভাষাগত পক্ষপাত: জেমিনাইয়ের মতো এআই মডেলগুলো প্রধানত ইংরেজি তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বাংলাসহ অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় এর উত্তরে পক্ষপাতিত্বের ঝুঁকি রয়েছে।
৪. দক্ষতার অভাব: ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মীর ডিজিটাল দক্ষতা নেই। এআই আসার পর তারা নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সরকারের ভূমিকা:

এআই যে সমাজে বিপদ বাড়াচ্ছে তা এখন স্পষ্ট। ২০২৪ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে গুগলকে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে এআই-এর ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনও সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন জরুরি। ভারতের মতো বিশাল দেশে প্রযুক্তি এবং সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।