কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর বিশ্ব মানচিত্রে এবার চালকের আসনে বসতে চলেছে ভারত। সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ভারতের সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার ব্লু-প্রিন্ট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আইএমএফ-এর র্যাঙ্কিং উল্লেখ করে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে ভারত আর পিছিয়ে পড়া কোনো দেশ নয়, বরং প্রথমসারির শক্তি।
বিশ্বমঞ্চে অশ্বিনী বৈষ্ণব ভারতের নিজস্ব ‘পঞ্চস্তরীয়’ (Five-Layer) এআই মডেল তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ভারত এখন আর অন্য কোনো উন্নত দেশকে অনুসরণ করছে না, বরং নিজেদের স্বাধীন ও আত্মনির্ভর পথ তৈরি করেছে। এই পাঁচটি স্তর ভারতকে প্রযুক্তির শিখরে নিয়ে যাবে:
১. অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার: কৃষি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মতো জনমুখী ক্ষেত্রগুলোতে সরাসরি এআই-এর প্রয়োগ করা হবে।
২. মডেল লেয়ার: বিদেশি এআই মডেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হবে ভারতের নিজস্ব এআই মডেল।
৩. কম্পিউট লেয়ার: এআই প্রশিক্ষণের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল জিপিইউ (GPU) কিনতে সরকার বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা করবে।
৪. ডেটা সেন্টার লেয়ার: দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য বা ডেটা যাতে দেশের সীমান্ত পেরিয়ে বাইরে না যায়, তার জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।
৫. এনার্জি লেয়ার: এআই পরিকাঠামোর জন্য প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন। স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর এবং বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করবে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই ঘোষণা প্রমাণ করে যে, ভারত কেবল এআই ব্যবহারকারী নয়, বরং এআই তৈরির কারখানায় পরিণত হতে চাইছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, ভারত এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর এবং বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল হয়ে উঠছে।