21 জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে এলাহী আয়োজন! রান্না হচ্ছে মটন-চিকেন, ৫০০ ফুটের পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন

একুশে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশকে ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই গোটা কলকাতা জুড়ে উৎসবের মেজাজ। ধর্মতলার দিকে জনস্রোত, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ঢল নেমেছে। কোথাও পিকনিকের মেজাজে রান্না হচ্ছে এলাহি ভোজ, আবার কোথাও বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুর জন্য তহবিল সংগ্রহে প্রতীকী মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ চোখে পড়ছে।

পিকনিকের মুডে কর্মী-সমর্থকরা:
নিউটাউনের রাম মন্দির প্যাঁচার মোড় সহ বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিপুল সমাগম দেখা গেছে। নিউটাউনের রাম মন্দির প্যাঁচার মোড়, বসিরহাট, হাড়োয়া, আন্দুলিয়া, রোহান্ডা, মধ্যমগ্রাম থেকে আসা কর্মীরা তাঁবু খাটিয়ে এলাহি খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছেন। গ্যাস ওভেন জ্বালিয়ে কোথাও রান্না হচ্ছে ভাত, ডাল, আলু, পটল, চিংড়ি, মুরগির মাংস, আবার কোথাও মুরগির মাংসের পাশাপাশি যোগ হয়েছে মটন। শহিদ সমাবেশের আগে এই ধরনের ভুরিভোজের আয়োজন কর্মদের মধ্যে এক ভিন্ন উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

জীবন ভান্ডার হাতে প্রতীকী মমতা:
ধর্মতলার জনসমুদ্রের মাঝে এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য দেখা গেল। সোনারপুরের হৃদিকা দাস নামে একটি বিরল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার জন্য ১৬ কোটি টাকা প্রয়োজন। অসুস্থ হৃদিকার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘জীবন ভান্ডার’ হাতে নিয়ে প্রতীকী মুখ্যমন্ত্রী সেজে ক্রাউড ফান্ডিং করছেন এক ব্যক্তি। এটি সমাবেশে আসা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবং সহানুভূতির জন্ম দিচ্ছে।

ধর্মতলামুখী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়:
হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাওড়ায় সাধারণের ভিড়ে মিশে ধর্মতলার দিকে যেতে দেখা গেছে। সভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি বলেন, “মানুষের পাশে থাকব। আজকের দিনে মঞ্চে নিশ্চয়ই যাব। এত অগুনতি মানুষ ধর্মতলার দিকে যাচ্ছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।” হাওড়া থেকে ফেরি পার হয়ে কাতারে কাতারে মানুষ ধর্মতলার পথে যাত্রা করছে, যার মধ্যে ভিড়ের অংশ হয়ে গেছেন সাংসদ রচনাও।

শিয়ালদহে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের তত্ত্বাবধান:
শিয়ালদহ স্টেশনে আগত কর্মী-সমর্থকদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হাবড়ার তৃণমূল বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক স্বয়ং দেখভালের কাজে নেমে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের একমাত্র দল, যাদের বুথ লেভেলের কমিটি রয়েছে। এটা কারও নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দিচ্ছেন, তা জানতেই এত কর্মীরা ছুটে আসছেন।” জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পাশেই ছিলেন জীবনকৃষ্ণ সাহা, যিনি ২১শে জুলাইয়ের সভাতেও কেন্দ্রের দিকে বন্দুক তাক করে রয়েছেন। জীবনকৃষ্ণের অভিযোগ, “গত দু’দিন ধরে সময়ের আগেই ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে যাচ্ছিল। আজ সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেনের দেখা নেই। সবাই সব কিছুই বোঝেন।”

আদালতের নির্দেশ মেনে ভোর থেকেই মিছিল:
আদালতের নির্দেশ মেনে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে কোনো মিছিলের অনুমতি ছিল না। ৮টার মধ্যে সমস্ত মিছিল শেষ করার নির্দেশ ছিল। সেই নির্দেশ মেনেই সোমবার সাতসকালেই ধর্মতলার দিকে মিছিল করে বেরিয়ে পড়েছেন সমর্থকরা। গত বছরের তুলনায় এবার মেয়ো রোডে সকাল সাড়ে ৬টায় যে ভিড় দেখা গেছে, তা সাধারণত ৯টায় দেখা যায়। এটি প্রশাসনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধের ইঙ্গিত বহন করে।

ডায়মন্ড হারবার থেকে বাসের ঢল:
শহিদ স্মরণে অভিষেকের গড় ডায়মন্ড হারবার থেকে শয়ে শয়ে বাস ধর্মতলার দিকে রওনা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বুথ থেকে একটি করে বাস ছাড়া হয়েছে, যার মোট সংখ্যা প্রায় ৩০০। এই বাসগুলিতে ৩০ হাজার কর্মী-সমর্থক ধর্মতলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

ভোর থেকেই একুশের মঞ্চে থিকথিকে ভিড়:
ভোরের আলো ফোটার মুহূর্তেই একুশের মঞ্চ ঘিরে থিকথিকে ভিড় দেখা যায়। কোথাও উঠছে অভিষেকের সমর্থনে স্লোগান, কারও বুকে আবার মমতার ছবি। রাজ্যের সমস্ত জেলার নেতা-কর্মী এসে পৌঁছেছেন ধর্মতলার একুশে জুলাইয়ের সভা মঞ্চে। চোখে একাধিক চ্যালেঞ্জ এবং তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে বারংবার ‘ধাক্কা’ সত্ত্বেও তৃণমূলের এই বার্ষিক ২১শে জুলাইয়ের সভা ঘিরে কর্মীদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। আদালতের নির্দেশ মেনে ভোর থেকেই সারি সারি বাসে করে রাজ্যের প্রায় সকল অংশের নেতা-কর্মীরা একুশের সভায় উপস্থিত হয়েছেন। সকলের অপেক্ষা এখন একটাই—পরের বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অভিমুখ কোন দিকে থাকে, তা আজই জানা যাবে।