৯ জনের মৃত্যুর নেপথ্যে ‘ফারুকাবাদ মডিউল’! I20 গাড়ির ডিএনএ টেস্টে ফাঁস হবে ‘কালো মাস্ক’ রহস্য?

সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের বাইরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু ও ২০ জন আহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে— বিস্ফোরণের পিছনে ফরিদাবাদ টেরর মডিউলের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরক ভর্তি একটি Hyundai I20 গাড়িতেই এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে।
গাড়িতে একা ছিল ‘মাস্ক-ম্যান’ ডাঃ উমর মহম্মদ?
গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, কালো মাস্ক পরা ব্যক্তি, অর্থাৎ ফরিদাবাদ মডিউলের পলাতক জঙ্গি ডাঃ উমর মহম্মদই I20 গাড়ির একমাত্র যাত্রী ছিল। বিস্ফোরণের পর গাড়িতে পাওয়া দেহাংশের ডিএনএ টেস্ট করা হচ্ছে, যাতে নিশ্চিত করা যায় সেটি উমর মহম্মদের দেহ কিনা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ফরিদাবাদে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট খুঁজে পাওয়ার পর উমর ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি দুই জঙ্গিকে সঙ্গে নিয়ে এই হামলার পরিকল্পনা করে। তবে বিস্ফোরণের সময় সে একাই ছিল।
বিস্ফোরণের আগের চাঞ্চল্যকর ৭ মিনিট
দিল্লি পুলিশ ১০০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একটি টাইমলাইন তৈরি করেছে, যা বিস্ফোরণের আগের কার্যকলাপকে সামনে এনেছে:
- দুপুর ৩:১৯: গাড়িটিকে লালকেল্লার কাছে গোল্ডেন মসজিদের পার্কিং লটে ঢুকতে দেখা যায়।
- সন্ধ্যা ৬:৪৮: দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা ২৯ মিনিট পর গাড়িটি পার্কিং লট থেকে বেরিয়ে যায়।
- সন্ধ্যা ৬:৫৫: পার্কিং থেকে বেরোনোর মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যেই ট্র্যাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটিতে বিস্ফোরণটি ঘটে।
- গাড়িটিকে শেষবার বাদরপুর বর্ডারে দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকেই সেটি দিল্লিতে ঢোকে।
I20 গাড়ির মালিকানা বদলের রহস্য
বিস্ফোরণে ব্যবহৃত I20 গাড়িটির (নম্বর HR 26 7624, গুরুগ্রাম RTO-তে নথিভুক্ত) মালিকানা বদলের শৃঙ্খলও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এটি মহম্মদ সলমনের নামে রেজিস্টার্ড ছিল। সলমান সেটি নাদিমের কাছে বিক্রি করে, যিনি ফরিদাবাদের ডিলার ‘রয়্যাল কার জোনে’র কাছে বিক্রি করেন। সেখান থেকে তারিক এবং পরে উমর মহম্মদ গাড়িটি কেনে। পুলওয়ামার সামবুরার বাসিন্দা তারিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারিক ২০১৫ সালেই গাড়িটি উমরকে বিক্রি করেছিল।
দিল্লি পুলিশ এই বিস্ফোরণের জন্য UAPA-এর ধারা ১৬ এবং ১৮, পাশাপাশি এক্সপ্লোসিভ সাবস্টেন্স অ্যাক্টের সেকশন ৩ এবং ৪-এ এফআইআর করেছে।