“৯৭৬ নেতার পাহারায় ২১৮৫ পুলিশ!”-ভোটের মুখে পুলিশের থেকে হিসাব চাইল নির্বাচন কমিশন

লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের জন্য বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা এবং এক সরকারি আধিকারিকের রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নেওয়ার ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কমিশন।

👮 ২১৮৫ পুলিশকর্মী কেন নেতাদের পাহারায়?
নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়া তথ্য অনুযায়ী, ভোট ঘোষণার আগে থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ৮৩২ জন নেতা এবং ১৪৪ জন সমর্থক, অর্থাৎ মোট ৯৭৬ জনকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই বিশাল সংখ্যক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিরাপত্তা দিতে মোতায়েন করা হয়েছে ২,১৮৫ জন পুলিশকর্মী।

ভোটের সময় যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বুথ পাহারায় অতিরিক্ত পুলিশের প্রয়োজন, তখন কেন এত সংখ্যক কর্মীকে নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে— সেই প্রশ্ন তুলে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে কড়া চিঠি দিয়েছে কমিশন। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

🚫 তৃণমূলের হয়ে প্রচার! সাসপেন্ড জয়েন্ট বিডিও
অন্যদিকে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের দায়ে খণ্ডঘোষের জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুনকে সরাসরি সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পদে থেকেও তিনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছিলেন।

কমিশনের কাছে এই সংক্রান্ত অকাট্য প্রমাণ আসার পরেই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

জ্যোৎস্না খাতুনকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাঁর জায়গায় দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে।

এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

⚖️ কমিশনের কড়া নজরদারি
ভোটের আগে পুলিশের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছে দিল্লি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিএপিএফ (CAPF) মোতায়েনের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের অপব্যবহার রুখতে কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নেতাদের নিরাপত্তা কমিয়ে সেই পুলিশ বাহিনীকে জননিরাপত্তায় লাগানো হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy