৯৬ ঘণ্টার ‘ড্রাই ডে’! ভোটের আগে সুরাপ্রেমীদের মাথায় ভেঙে পড়ল আকাশ, কেন এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত?

নির্বাচন মানেই যেন উৎসবের আমেজ, আর ভারতে সেই উৎসবের এক অবিচ্ছেদ্য (যদিও বিতর্কিত) অঙ্গ হলো মদের ওপর নিষেধাজ্ঞা। সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদ বিক্রি বন্ধ থাকে। কিন্তু ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এই চিরাচরিত নিয়মে বড়সড় বদল এসেছে। রাজ্যের কিছু অংশে ৪৮ ঘণ্টার বদলে জারি হয়েছে টানা ৯৬ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা, যা সুরাপ্রেমীদের মধ্যে কার্যত হাহাকার তৈরি করেছে।

কেন এই দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা?
নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজ্যে মদের বিক্রিতে এক অস্বাভাবিক উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারদের প্রলুব্ধ করার প্রচেষ্টা রুখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার থেকেই কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় মদের দোকানগুলোতে ঝুলেছে তালা। গড়িয়া, যাদবপুর বা চৌরঙ্গীর মতো এলাকায় বহু মানুষকে বন্ধ দোকানের সামনে ভিড় জমাতে দেখা যায়। আগাম ঘোষণা ছাড়াই এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ভোটের সূচি ও ড্রাই-ডে:
কমিশনের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩শে এপ্রিল। নিয়মমাফিক ২১শে এপ্রিল থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বিশেষ নির্দেশিকায় তা অনেক আগেই কার্যকর হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯শে এপ্রিল, যার জন্য ২৭ থেকে ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত ড্রাই-ডে নির্ধারিত রয়েছে। এ ছাড়াও ৪ঠা মে, অর্থাৎ ফল ঘোষণার দিন রাজ্যজুড়ে কোনো মদ বিক্রি হবে না। এই দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় রাতের শহরের বার ও রেস্তোরাঁ মালিকরা।

বিপুল পরিমাণ মদ ও নগদ বাজেয়াপ্ত:
আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন রাজ্যে কড়াকড়ি তুঙ্গে। এখনও পর্যন্ত প্রশাসন তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪২৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের নগদ, মাদক এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র মদের বাজারমূল্যই প্রায় ৮১ কোটি টাকা। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা—সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করতে কোনো ধরনের প্রলোভন বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। আপাতত সুরাপ্রেমীদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy