দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ের গতি দেখে যদি আপনি উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি উপত্যকাগুলির দিকে রওনা হওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে একটু অপেক্ষা করুন। আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়ের কল্যাণে দিল্লি থেকে দেরাদুনের দূরত্ব এখন কমে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয় এক্সপ্রেসওয়ে শেষ হওয়ার পর। দেরাদুন শহরের সীমানায় প্রবেশ করার সাথে সাথেই যানজট এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আড়াই ঘণ্টার যাত্রা নিমেষেই সাড়ে চার ঘণ্টায় পরিণত হয়।
পর্যটনের জোয়ার না কি শহরের অভিশাপ?
বহু প্রতীক্ষিত এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় উত্তরাখণ্ডের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি এসেছে, কিন্তু এই উন্নয়নই এখন রাজধানী দেরাদুনের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি-এনসিআর থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা অভূতপূর্বভাবে বেড়ে যাওয়ায় শহরের প্রবেশপথগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তে দিল্লি, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাব থেকে আসা গাড়ির চাপে শহরের সরু রাস্তাগুলো স্থবির হয়ে পড়ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের পাহাড়:
দেরাদুনের ট্র্যাফিক ব্যবস্থার বেহাল দশা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নেটিজেনরা ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স-এ (টুইটার) যানজটের ভিডিও শেয়ার করে প্রশাসনের সমালোচনা করছেন। এক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, কিন্তু শহরের ভেতরের জ্যাম কাটাতে কি আরও দু’দিন লাগবে?” অনেকে দাবি তুলেছেন, মুসৌরীগামী পর্যটকদের জন্য শহরকে বাইপাস করে সরাসরি করিডোর তৈরি না করলে দেরাদুন অচিরেই একটি “খোলা পার্কিং লটে” পরিণত হবে।
এক্সপ্রেসওয়ের সৌন্দর্য বনাম পরিকাঠামোগত দুর্বলতা:
২১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছয়-লেনের এক্সপ্রেসওয়েটি প্রকৌশলের এক বিস্ময়। রাজাজি জাতীয় উদ্যানের ওপর দিয়ে যাওয়া ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যপ্রাণী করিডোর এবং সুড়ঙ্গটি পর্যটকদের মূল আকর্ষণ। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, যাতায়াত সহজ করার জন্য নির্মিত এই মহাসড়কটিই এখন শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তার দুর্বলতা প্রকাশ করে দিচ্ছে। ১৬টি প্রবেশপথ দিয়ে আসা বিপুল যানবাহন সামলানোর ক্ষমতা দেরাদুনের প্রধান সংযোগস্থলগুলোর নেই।
সমাধানের পথ কোথায়?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক্সপ্রেসওয়ের কাজ দ্রুত শেষ হলেও শহরের ভেতরের ফ্লাইওভার ও বিকল্প পথের কাজ অত্যন্ত মন্থর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই একটি নতুন ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান এবং মুসৌরী পর্যন্ত সরাসরি বাইপাস নিয়ে কাজ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আপাতত পর্যটকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, বাড়ি থেকে বেরনোর আগে পাহাড়ের সৌন্দর্য নয়, বরং দীর্ঘ যানজটের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিতে।





