বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার খবরে শেয়ার বাজারে তেজিভাব দেখা দিলেও, মুদ্রাবাজারে ভারতীয় রুপির রক্তক্ষরণ থামছে না। ডলারের ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) সাম্প্রতিক শিথিল নীতির জেরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর আবারও ৯৩-এর গণ্ডি পার করেছে। যদিও গত মার্চ মাসে রুপি ৯৫-এর ঘর ছুঁয়েছিল, সেই তুলনায় বর্তমান অবস্থান কিছুটা ভালো হলেও নতুন করে পতনের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা।
মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই ডলারের বিপরীতে রুপির দর ১৬ পয়সা কমে ৯৩.৩২-এ নেমে আসে। ফরেক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং অন্যদিকে আরবিআই কর্তৃক ফটকাবাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার ফলেই এই পতন। যদিও দেশীয় শেয়ার বাজারের উত্থান এবং বিদেশি তহবিলের প্রবাহ রুপিকে কিছুটা সমর্থন দিচ্ছে, তবে পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাজারে অস্থিরতা বজায় রেখেছে।
আরবিআই-এর নীতি বদল:
রুপির অতিরিক্ত অস্থিরতা রোধে গত ১ এপ্রিল যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, সোমবার তা আংশিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক। নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলি এখন থেকে আবাসিক ও অনাবাসিক গ্রাহকদের কাছে রুপির সাথে যুক্ত ‘নন-ডেলিভারেবল ডেরিভেটিভ চুক্তি’ পুনরায় অফার করতে পারবে। এই নীতি পরিবর্তনের ফলে বাজারে মুদ্রার লেনদেনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র:
ডলার সূচক ০.০৪ শতাংশ বেড়ে ৯৭.৯৪-এ দাঁড়িয়েছে, যা অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় ডলারের আধিপত্যকে স্পষ্ট করছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ৯৪.৯৯ ডলারে ঘোরাফেরা করছে। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলে বাধা দেয়, তবে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে—এই আশঙ্কায় তেলের বাজারও অস্থিতিশীল। বুধবারই শেষ হচ্ছে মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি, যা বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।
শেয়ার বাজারে অবশ্য উল্টো ছবি দেখা গেছে। দিনের শুরুতে সেনসেক্স প্রায় ৩৮০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৮৯৯-এর স্তরে পৌঁছেছে এবং নিফটিও ঊর্ধ্বমুখী। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) সোমবার প্রায় ২,০৬৬ কোটি টাকার শেয়ার কিনে বাজারের ওপর আস্থা দেখিয়েছেন।





