৮ দিন পরেও অধরা খুনি, একবালপুরে কুপিয়ে খুন কাণ্ডে বিক্ষোভে কংগ্রেস, ক্ষোভ বাড়ছে পুলিশের বিরুদ্ধে

একবালপুরে এক প্রতিবাদী যুবককে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় আট দিন পার হলেও এখনো কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত ধনরাজ প্রসাদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ ঘটনায় সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহলও, প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
কী ঘটেছিল একবালপুরে?
ঘটনাটি ঘটেছিল গত সোমবার রাতে। ধনরাজ প্রসাদ তার বাড়ির সামনে মদ্যপান ও গালিগালাজ করার প্রতিবাদ করেছিলেন। অভিযোগ, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমজাদ নামে এক দুষ্কৃতী তার ওপর চপার দিয়ে এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। গুরুতর আঘাত নিয়ে ধনরাজকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও, পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অবশেষে, মামলার তদন্তভার লালবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিমের কড়া বার্তা
গত রবিবার নিহত ধনরাজের বাড়িতে গিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “মুঙ্গের, জামুই-এর মতো বিহারের বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্যুটার ও অপরাধীরা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে এবং এই ধরনের অপরাধ ঘটাচ্ছে।” তিনি পুলিশকে দ্রুত তদন্তের দায়িত্ব গোয়েন্দা বিভাগের হাতে তুলে দিতে এবং যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার এই কঠোর মন্তব্যের পরও অপরাধীরা অধরা।
গুলশন কলোনির রহস্য
একদিকে একবালপুরের ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ, অন্যদিকে গুলশন কলোনিতে তাণ্ডবের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মিনি ফিরোজ চার দিন পরেও অধরা। তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হলেও তিনি পুলিশের খাতায় ‘ফেরার’ হিসেবে রয়েছেন। অথচ, সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি প্রতিনিয়ত ভিডিও এবং রিল পোস্ট করে হুমকি-হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। এই দুই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।