সমস্ত জল্পনা ও আশঙ্কার মেঘ কাটিয়ে অবশেষে নির্ধারিত সময়েই কি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন? নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত পর্যায়ে। সব ঠিক থাকলে আগামী ১৬ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের বাজনা বাজিয়ে দিতে পারেন।
৮ দফা নয়, এবার কি খেলা ঘুরছে? বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে বহু দফায় ভোট হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার সম্ভবত সেই দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া থেকে সরছে কমিশন। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে মাত্র ২ দফায়। দিল্লিতে কমিশনের দপ্তরে আর এক দফা বৈঠকের পরই সিলমোহর পড়বে এই সিদ্ধান্তে। প্রশাসনের একাংশের মতে, মাত্র ২ দফায় ভোট হলে দুষ্কৃতীরা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় গিয়ে অশান্তি করার সুযোগ কম পাবে, যা আদতে হিংসা রুখতে সাহায্য করবে।
আদালতের সবুজ সঙ্কেত: ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষ আবেদনের জট নিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে তা অনেকটাই কেটেছে। ১০ মার্চ সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোট ঘোষণা করার ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা নেই। বর্তমানে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকদের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটের সম্ভাব্য সময়সূচি: কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, ১৬ মার্চ ভোট ঘোষণা হলে রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রচারের জন্য অন্তত ২৮-৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে এপ্রিলের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হতে পারে। তামিলনাড়ু, কেরলম, অসম এবং পণ্ডিচেরিতেও একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই কম দফায় ভোটের পক্ষে সওয়াল করেছে। এখন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট খতিয়ে দেখে কমিশন চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।