৮০০ সিসিটিভি ফুটেজ, তবু খোঁজ মিলল না! বন দফতর-বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঘুম কেড়ে নিল ‘নীল মুখ’-এর বাঁদর

কলকাতা বিমানবন্দরে এক বিশেষ প্রজাতির ছোট বাঁদরের (monkey) নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চাঞ্চল্য অব্যাহত। প্রায় ৯০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও অধরা সেই ‘পলাতক বাঁদর’। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রাজ্যের বন দফতরকে এবং প্রাণী উদ্ধারের বিশেষ টিমকে এ বিষয়ে জানালেও, এখনও পর্যন্ত তারা বাঁদরটিকে উদ্ধার করতে পারেনি। বিশেষ প্রজাতির এই বাঁদরের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে, তবে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি কেউই।
ঘটনার সূত্রপাত হয় থাই এয়ারওয়েজের এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশির সময়। থাইল্যান্ড থেকে আসা ওই যাত্রীর ব্যাগ কাস্টমস অফিসাররা রুটিন তল্লাশির সময় খুলতেই ভিতরে দুটি ছোট বাঁদর দেখতে পান। আশ্চর্যের বিষয় হল, এর মধ্যে একটি বাঁদরকে উদ্ধার করা গেলেও, অন্যটি কর্মীদের হাত থেকে পালিয়ে যায়।
৮০০ ক্যামেরাতেও মিলল না হদিস
বিমানবন্দর চত্বরে শুরু হয় জোর তল্লাশি। ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও ‘নিখোঁজ বাঁদর’-এর খোঁজ না মেলায় কর্তৃপক্ষ চিন্তিত। আরও আশ্চর্যের বিষয়, বিমানবন্দরের ৮০০-এরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেও বাঁদরটির কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, পরিবেশ দফতর এবং প্রাণী উদ্ধারের বিশেষ টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। কলকাতা বিমানবন্দরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সুরক্ষার স্বার্থে প্রতিটি জায়গা তল্লাশি করা হচ্ছে এবং আপাতত যাত্রীদের আতঙ্কের কিছু নেই। রাজ্য বন দফতর জানিয়েছে, তাদের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এয়ারপোর্ট লাউঞ্জের সিসি ক্যামেরার ফিড একাধিকবার চেক করা হচ্ছে এবং লাউঞ্জ এরিয়ার ডাক্ট (Duct) খুলে দেখার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ প্রজাতির বাঁদর: ‘শ্যাঙ্কড ডুক’
জানা গিয়েছে, এই বিশেষ প্রজাতির বাঁদরটির নাম ‘শ্যাঙ্কড ডুক’ (Shanked Douc), যা Pygathrix Nigripes নামেও পরিচিত। এদের নীল মুখ এবং চোখের চারপাশে হলুদ বলয় দেখে আলাদা করে চেনা যায়। এরা সাধারণত ফল ও পাতা খায়। মনে করা হচ্ছে, এই বিরল প্রজাতির বাঁদরটি সম্ভবত বিমানবন্দরের ভিতরে নয়, বাইরে কোথাও লুকিয়ে রয়েছে।