সামাজিক মাধ্যমে তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণা। তাঁর প্রতিটি ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয়। কিন্তু নিজের বিয়ের আসরে যা করলেন জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার অরুণ পাওয়ার, তাতে প্রশংসার বদলে জুটল আমজনতার তীব্র ঘৃণা আর সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, নিজের বিয়েতে নগদ ৭১ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ২৫০ গ্রাম সোনা ‘পণ’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ আদান-প্রদানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
ইউটিউবারের পণের বহর: অরুণ পাওয়ারের ইউটিউব চ্যানেলে ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় ২.৪ মিলিয়নের গণ্ডি ছুঁইছুঁই। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র ইউটিউব থেকেই মাসে তাঁর আয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। এত স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের মতো পবিত্র বন্ধনে কেন লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন করতে হল, সেই প্রশ্নই তুলছেন নেটিজেনরা। যদিও বিষয়টিকে সরাসরি ‘পণ’ বলতে নারাজ ইউটিউবার, তাঁর দাবি এটি কনেপক্ষের দেওয়া ‘দান’ বা ‘উপহার’। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, উপহার কি কখনও এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা হতে পারে?
রোষের মুখে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব: এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্তূপাকার নগদ টাকার বান্ডিল এবং সোনার গয়না সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই দৃশ্য দেখে নেটিজেনদের চোখ ছানাবড়া। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “পণপ্রথা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও নামী ব্যক্তিত্বরা যদি ‘উপহার’ বা ‘দান’-এর মোড়কে এই প্রথাকে বাঁচিয়ে রাখেন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে?” কনেপক্ষের ওপর এই ধরনের আর্থিক চাপ অনেক সময় তাঁদের মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দেয় বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
টাকার মালা ও পণের সংস্কৃতি: বিয়ের আসরে টাকার এই নির্লজ্জ প্রদর্শন ভারতে নতুন নয়। এর আগে ৫০০ টাকার নোট দিয়ে তৈরি ১ কোটি টাকার মালা পরে এক বরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। তবে অরুণ পাওয়ারের মতো একজন প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সার যখন পণের এই সংস্কৃতির অংশ হন, তখন বিতর্ক মাত্রা ছাড়ায়। সমালোচকরা বলছেন, এই টাকা অপচয় না করে গরিব বা দুঃস্থদের কল্যাণে ব্যয় করা যেত।
বিতর্ক তুঙ্গে থাকলেও জনপ্রিয় এই ইউটিউবার এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে সমাজকর্মীদের দাবি, প্রশাসনের উচিত এই ধরনের ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে সমাজের কাছে কড়া বার্তা পৌঁছায়।