“৭১ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২৮ জনের…?”-ফৌজদারি মামলায় মোদীর মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের কি অবস্থা?

সম্প্রতি ভারতের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ‘সংবিধান সংশোধনী বিল’। এই বিলটি বর্তমানে সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছে আছে। এই বিল নিয়ে বিরোধীরা সন্দেহ প্রকাশ করলেও, সরকার পক্ষ বলছে এটি পাশ হবেই।

এই বিলের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীদের আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে আনা। বিল অনুযায়ী, যদি কোনো মন্ত্রী দুর্নীতি বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য ৩০ দিনের বেশি হেফাজতে থাকেন, তবে তাকে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, সাজা ঘোষণার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কত মামলা?

‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)’ নামে একটি সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ৩০ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১২ জনের (৪০ শতাংশ) বিরুদ্ধেই বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে (৮৯টি)।

এর পরেই আছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন, যার বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা রয়েছে।

এছাড়াও, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর বিরুদ্ধে ১৯টি, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার বিরুদ্ধে ১৩টি এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং উভয়ের বিরুদ্ধেই চারটি করে মামলা আছে।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বিরুদ্ধেও মামলা আছে।

এই তথ্যগুলো মুখ্যমন্ত্রীরা নিজেরাই তাদের নির্বাচনের হলফনামায় জানিয়েছেন। এই ১২ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, ঘুষ এবং ভয় দেখানোর মতো গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

মন্ত্রিসভাতেও কি একই চিত্র?

শুধু মুখ্যমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেই নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ADR-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান মন্ত্রিসভার ৭১ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১৯টি হলো গুরুতর মামলা। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গেরও দুই মন্ত্রীর নাম রয়েছে।

এই বিল পাশ হলে তা দুর্নীতি দমনে কতটা সাহায্য করবে, নাকি বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার একটি কৌশল, তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।