৭০ লক্ষের তোলাবাজির অভিযোগ, গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন কাউন্সিলর

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা পুরসভার অন্দরে ফের বড়সড় ভাঙন। এবার তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল। সোমবার গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। ২০২৩ সালের একটি মামলায় ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত এই নেতা দীর্ঘ দিন ধরেই পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।
সূত্রের খবর, ২০২৩ সালে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে শামস ইকবাল ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা জোরপূর্বক ৭০ লক্ষ টাকা আদায় করেন। সম্প্রতি ওই ব্যবসায়ীকে নতুন করে হুমকির মুখে পড়তে হয়। ক্রমাগত চাপ ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শেষ পর্যন্ত গার্ডেনরিচ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির পাশাপাশি অস্ত্র আইনেও মামলা রুজু করা হয়েছে।
গার্ডেনরিচ এলাকায় একসময় শামস ইকবালের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ২০১৫ সাল থেকে কাউন্সিলর থাকাকালীন তাঁর প্রতিপত্তি ছিল তুঙ্গে। ২০২০ সালে কলকাতা পুরসভার রিভিউ মিটিংয়ে কোটি টাকা মূল্যের লাল ‘অ্যাস্টন মার্টিন’ গাড়ি নিয়ে এসে তিনি শিরোনামে এসেছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নেতার দাপটে এলাকা কার্যত তটস্থ থাকত। এমনকি গত ৪ মে দলের পরাজয়ের পর এলাকা জুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল।
সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, গত ২১ জুন রেড রোডের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরর সামনে উপস্থিত ছিলেন শামস ইকবাল। সেখানে তাঁকে শুভেন্দু অধিকারীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, শীর্ষ নেতৃত্বের ‘সৌজন্যে’ হয়তো তিনি রক্ষা পাবেন। কিন্তু সেই সমীকরণ যে শেষ পর্যন্ত কাজে এল না, তা সোমবারের এই গ্রেফতারিই প্রমাণ করে দিল।
শুধু শামস ইকবাল নন, এদিন পানিহাটিতেও তোলাবাজির অভিযোগে আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর জয়ন্ত দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর একের পর এক অভিযোগে জড়িয়ে পড়ছেন। পদত্যাগ কিংবা আত্মগোপন করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না অনেকেরই।
এখন দেখার বিষয়, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে আর কোন বড় মাথা ধরা পড়ে।