সাত বছর আগেই শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন। কিন্তু স্কুলের কর্মজীবন থমকে যায়নি মগরা প্রভাবতী বালিকা বিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশনের (শারীরশিক্ষা) শিক্ষিকা শিখা ঘোষের। ২০১৮ সালে অবসর নেওয়ার পরও অভিভাবক এবং ছাত্রীদের অনুরোধে এখনও পড়াশোনা ও কবাডির প্রশিক্ষণ করিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর এই শিক্ষাদানে গর্বিত স্কুলের প্রতিষ্ঠিত ছাত্রী থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষিকা পর্যন্ত।
অ্যাথলিট থেকে কোচ শিখা ঘোষ
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায় অত্যন্ত পারদর্শী শিখা ঘোষ অ্যাথলিট কোচ। অ্যাথলিট হিসেবে দৌড় ও কবাডিতে একাধিক জাতীয় পদক জিতেছেন তিনি। ১৯৯৮ সালে জাপানে এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে রিলে রেসে ২টি বিভাগে সোনাও জিতেছেন। বর্তমানে তিনি ছাত্রীদের কবাডিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্কুল গেমস ও ন্যাশনালে পদক জিতে স্কুলের সম্মান বাড়িয়ে চলেছেন।
১৯৮১ সালে মগরা প্রভাবতী বালিকা বিদ্যালয়ে শারীরশিক্ষার শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন শিখা ঘোষ। তার এই শিক্ষকতা জীবনে ৫০০-র বেশি ছাত্রীকে তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ২০১৮ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেন না। পেনশনই তার ভরসা। তার আক্ষেপ, স্কুলের গণ্ডির বাইরে গিয়ে কোনো ক্লাবে তিনি কোচিং করাতে পারেননি, কারণ একাধিকবার বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।
শিখাদি’র অবদানে গর্বিত স্কুল
প্রভাবতী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মহুয়া চট্টোপাধ্যায় জানান, এই স্কুল বিল্ডিং তৈরি হওয়ার আগে থেকেই শিখা ঘোষ এই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তার নিয়মানুবর্তিতা ও নিষ্ঠা প্রশংসার যোগ্য। প্রধান শিক্ষিকা আরও বলেন, “বিভিন্ন সরকারি স্কুলের ছাত্রীর সংখ্যা কমছে, কিন্তু আমাদের ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর জন্য শিখাদি’র অবদান অনেক বেশি।”
লক্ষ্মী নায়েক নামের এক প্রাক্তন ছাত্রী যিনি শিখা ঘোষের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তিনি জানান, “ম্যাডামের জন্যই এই জায়গায় পৌঁছনো। এখনও জিমের জন্য স্কুলে আসি। এখনও ম্যাডাম আগের মতো আমাদের প্রশিক্ষণ দেন।” শিখার বর্তমান ছাত্রী সান্তনা দাস জানায়, “ম্যাডামের কাছে কবাডি শিখছি দীর্ঘদিন ধরে। কবাডি ছাড়াও দৌড় ও খো খো শিখি। সকলকে তিনি সাহায্য করেন।”
শিখা ঘোষের অবদানে আজ বহু ছাত্রী খেলাধুলার কোটায় চাকরি পেয়ে প্রতিষ্ঠিত। তিনি চান, মেয়েরা যেন শুধু খেলাধুলায় নয়, নিজেদের জীবনও গড়ে তোলে।