বর্তমান যুগে ‘লিভ-ইন’ সম্পর্ক বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও, প্রায় ৭০ বছর আগে ভারতে এই ধারণা ছিল সম্পূর্ণ অচেনা। সেই অচেনা পথেই হেঁটেছিলেন রাজস্থানের দুঙ্গারপুর জেলার গলান্দর গ্রামের রামা ভাই খরারি এবং জীউয়ালি দেবী। সমাজের কোনো পরোয়া না করে, দীর্ঘ সাত দশক ধরে স্বামী-স্ত্রীর মতোই একসঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন তারা। আর এবার, ৯৫ বছর বয়সে এসে রামা ভাই এবং ৯০ বছর বয়সী জীউয়ালি দেবী অবশেষে সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন, এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তাদের এই কাহিনী যেন ভালোবাসার কোনো বয়স নেই, সেই চিরন্তন সত্যকেই নতুন করে প্রমাণ করল।
অসময়ের প্রেম, সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
আজ থেকে ৭০ বছর আগে, ২৫ বছরের তরুণ রামা ভাই এবং ২০ বছরের তরুণী জীউয়ালির মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় বিবাহ ছাড়াই একসঙ্গে বসবাস করা ছিল অভাবনীয় এবং সমাজের চোখে ‘অস্বাভাবিক’। কিন্তু নিজেদের ভালোবাসাকেই তারা প্রাধান্য দিয়েছিলেন, কে কী বলল তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন মনে করেননি। তাদের এই দীর্ঘ সহবাসের ফলস্বরূপ আটটি সন্তানও রয়েছে, যাদের কয়েকজনের বয়স এখন ৫০-এর বেশি। কে কী বলল, তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন মনে করেননি তারা। নিজেদের ভালোবাসাকেই তারা প্রাধান্য দিয়েছিলেন, যা তাদের সম্পর্ককে ৭০ বছর ধরে টিকিয়ে রেখেছে।
নাতি-নাতনিদের উপস্থিতিতে শুভ পরিণয়
এখন রামা ভাইয়ের বয়স ৯৫ বছর এবং জীউয়ালি দেবীর বয়স ৯০। তাদের পুত্র-কন্যাদের বিয়ে হয়েছে এবং তাদেরও সন্তান-সন্ততি রয়েছে। নাতি-নাতনি এবং পুতি-পুতনিদের নিয়ে তাদের ভরা সংসার। এই বয়সে এসে, তারা নিজেদের ইচ্ছায় অবশেষে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের কথা তারা নিজেদের ছেলে-মেয়েদের জানালে, কেউই আপত্তি করেননি। বরং, দ্রুত বিয়ের আয়োজন সেরে ফেলেন তারা। সমস্ত সামাজিক রীতিনীতি মেনেই ধুমধাম করে রামা ভাই ও জীউয়ালি দেবীর বিয়ে সম্পন্ন হয়, যা এক বিরল এবং আনন্দঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করে।
এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা
সত্তর বছরের সহবাস শেষে এখন তারা স্বামী-স্ত্রী। রাজস্থানের দুঙ্গারপুর জেলার গলান্দর গ্রামে এই নবদম্পতির বিয়ে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অসাধারণ গল্প। রামা ভাই এবং জীউয়ালি দেবী, তাদের এই নতুন জীবন নিয়ে এখন বেজায় খুশি। তাদের এই দীর্ঘ এবং ব্যতিক্রমী ভালোবাসার গল্প হয়তো ভবিষ্যতের অনেককেই নতুন করে সম্পর্কের অর্থ বোঝাবে, যে ভালোবাসার কোনো গণ্ডি বা সামাজিক প্রথা থাকে না, তা শুধুমাত্র হৃদয়ের বন্ধন।





