৬০ বছর অপেক্ষা! বিমানযাত্রার স্বপ্ন পূরণ হতেই বাবা মায়ের চোখে জল, জানুন বিস্তারিত

মাঝে মাঝে কিছু স্বপ্ন কেবল মনের কোণেই চাপা পড়ে থাকে, আর বহু বছর পর যখন প্রিয়জনের হাত ধরে সেই স্বপ্ন সত্যি হয়, তখন আনন্দের জল গড়িয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। সোশ্যাল মিডিয়ার অন্তর্জাল দুনিয়ায় সম্প্রতি এমন একটি মন ছুঁয়ে যাওয়া ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা যে কারও চোখ ভিজিয়ে দিতে বাধ্য। ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ধীরাজ তাঁর বাবা-মায়ের জীবনের প্রথম বিমানযাত্রার দুর্লভ ও অমূল্য মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করেছেন, যা লাখ লাখ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ধীরাজ দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে জীবনের নানা প্রতিকূলতা আর পারিবারিক দায়িত্বের বেড়াজাল টপকে প্রিয় মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সত্যি করতে হয়। ধীরাজের বাবা বহু বছর ধরে আকাশ ছোঁয়ার এবং একটিবার উড়োজাহাজে চড়ার স্বপ্ন দেখতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অবদমিত স্বপ্নটি ছেলেরও অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওর ক্যাপশনে ধীরাজ অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী এক পংক্তি লিখেছন, “আমার লেগেছে ২৯ বছর, কিন্তু তাদের লেগেছে ৬০ বছর।” এই একটিমাত্র লাইন যেন প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে এক প্রজন্মের পর প্রজন্মের না বলা লড়াই ও ত্যাগের গল্পকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে। ভিডিওতে দেখা যায়, ধীরাজের সঙ্গে প্রথম ফ্লাইটে ওঠার পর তাঁর বাবা-মায়ের চোখ দুটি আনন্দে চকচক করে উঠছে এবং মুখে উপচে পড়ছে নিখাদ খুশির ঝিলিক। এটি কেবল একটি সাধারণ গন্তব্যের যাত্রা ছিল না, বরং ছিল সন্তানের তরফ থেকে মা-বাবার দীর্ঘদিনের একটি পবিত্র প্রতিশ্রুতির ঐতিহাসিক রূপায়ণ।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই তা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের কাছ থেকে উপচে পড়া ভালোবাসা কুড়াতে শুরু করে। কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরাও তাদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। একজন সংবেদনশীল ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “বাবা-মায়ের মুখের ওই নিষ্পাপ ও তৃপ্তির হাসিই সব কথা বলে দিচ্ছে, এর চেয়ে দামি আর কিছু হতে পারে না।” অন্য এক নেটিজেন লিখেছেন, “ভাই, তোমার এই মহৎ কাজ দেখে আজ সত্যিই তোমার জন্য প্রচণ্ড গর্ববোধ হচ্ছে।” আরও বহু মানুষ মন্তব্য বাক্সে লিখেছেন যে, নিজের মা-বাবাকে এভাবে সুখী দেখতে পাওয়ার অনুভূতি এই পৃথিবীর সমস্ত প্রাপ্তির ঊর্ধ্বে। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান হয়েও নিজের সমস্ত সামর্থ্য দিয়ে মা-বাবার ৬০ বছরের সুপ্ত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ধীরাজের এই অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী এখন ইন্টারনেটের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।