ভরদুপুরে তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিলোত্তমা। শুক্রবার দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ—বিস্তীর্ণ এলাকায় জোরাল কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। কম্পনের উৎসস্থল প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ বলে জানা গিয়েছে।
আতঙ্কে রাজপথে জনস্রোত: দুপুর ১টা ২০ মিনিটে প্রথম ঝটকা লাগার পর ১টা ২৩ মিনিট নাগাদ ফের টানা কম্পন টের পান শহরবাসী। মুহূর্তের মধ্যে সেক্টর ফাইভ থেকে ডালহৌসি—অফিসপাড়ার উঁচু বহুতলগুলি থেকে কর্মীরা রাস্তায় নেমে আসেন। শুধু কলকাতাই নয়, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। অনেকেরই অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ‘আর্থকোয়েক অ্যালার্ট’ বেজে ওঠায় আতঙ্ক আরও বাড়ে।
কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা? সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে বহু মানুষ জানান, হঠাৎ করেই সিলিং ফ্যান দুলে ওঠে, টেবিলের ওপর রাখা জলের বোতল কাঁপতে শুরু করে। কেউ কেউ ক্ষণিকের জন্য মাথা ঝিমঝিম করার কথাও জানিয়েছেন। অফিসপাড়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ এবং আবাসিক এলাকা থেকেও মানুষজন আতঙ্কে ফাঁকা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। এমনকী লালবাজারের মতো চত্বরে পুলিশ কর্মীদেরও নিরাপত্তার খাতিরে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
মাসে দ্বিতীয়বার কাঁপল বাংলা: চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্পের সাক্ষী থাকল কলকাতা। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা নাগাদ মায়ানমারের ভূমিকম্পের প্রভাবে শহর কেঁপে উঠেছিল। এছাড়া আজ সকালেই উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং এলাকাতেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কোনও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে মোবাইলে ‘আফটার শক’-এর পূর্বাভাস থাকায় শহরজুড়ে সতর্কবার্তা জারি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বাড়ি বা অফিসের লিফট ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।