৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা থেকে নিজের বাড়ি— বাংলার জন্য মোদীর ঝুলিতে আর কী কী? বদলে যাচ্ছে আপনার ভাগ্য!

বাংলায় দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসনের বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। আগামী ৯ মে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তবে শপথের আগে সাধারণ মানুষের মনে সবথেকে বড় প্রশ্ন— ক্ষমতার এই পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী কী বদল আসতে চলেছে? বিশেষ করে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে এতদিন দিল্লি বনাম নবান্নের দড়ি টানাটানি চলত, সেগুলোর ভবিষ্যৎ ঠিক কী?

দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁর সরকারের প্রথম লক্ষ্য হবে বাংলার মানুষকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সুবিধার আওতায় আনা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, নতুন সরকার আসায় কোন কোন বড় প্রকল্পের দরজা খুলতে চলেছে রাজ্যবাসীর জন্য:

১. আয়ুষ্মান ভারত: ৫ লক্ষ টাকার সুরক্ষা

এতদিন বাংলায় এই প্রকল্প চালু ছিল না। তবে বিজেপি সরকার গঠনের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ‘প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা’ বা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে প্রতিটি পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবে।

২. প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা: স্বচ্ছতায় মিলবে বাড়ি

রাজ্যে এই প্রকল্পের কাজ অনেকটা হলেও দুর্নীতির অভিযোগে বারবার টাকা আটকে দিয়েছিল কেন্দ্র। এবার গ্রামীণ ও শহুরে— উভয় ক্ষেত্রেই যোগ্য প্রাপকদের বাড়ি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আর কোনও প্রশাসনিক বাধা থাকছে না।

৩. জল জীবন মিশন: ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল

কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, বাংলা এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের বরাদ্দের মাত্র ৫৩ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে। এবার নথিপত্র বা প্রস্তাব জমার বিলম্ব মিটিয়ে ২০২৬-এর মধ্যেই গ্রামীণ বাংলার প্রতিটি পরিবারে ট্যাপের জল পৌঁছে দেওয়াই হবে নতুন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

৪. পিএম শ্রী স্কুল ও বিশ্বকর্মা যোজনা

রাজ্যের স্কুলগুলোর ভোলবদল করতে চালু হবে ‘পিএম শ্রী’ মডেল স্কুল। পাশাপাশি, বাংলার দক্ষ শিল্পী যেমন তাঁতি, কুমোর বা কামারদের জন্য চালু হবে ‘পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা’। যেখানে তাঁদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে স্বনির্ভর করা হবে।

৫. মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন আলো

‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’র মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের বিমা, আধুনিক সরঞ্জাম এবং আর্থিক সাহায্যের পথ প্রশস্ত হবে। যা উপকূলীয় জেলাগুলোতে অর্থনৈতিক বিপ্লব আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন যে প্রকল্পগুলো স্রেফ ‘ক্রেডিট লড়াকু’র অভাবে আটকে ছিল, এবার নবান্ন ও দিল্লির রাজনৈতিক রঙ এক হওয়ায় তার সরাসরি সুফল পেতে চলেছেন বাংলার কোটি কোটি মানুষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy