বাংলার মানুষের আবেগের নাম ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। আর সেই আবেগকেই এবার রাজকীয় মর্যাদা দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় সপ্তাহের মধ্যেই আমজনতার জন্য সবথেকে বড় উপহার ঘোষণা করলেন পঞ্চায়েত ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এবার থেকে ৫ টাকার ‘মা ক্যান্টিনে’ কেবল ডিম-ভাত নয়, পাতে পড়বে সুস্বাদু মাছও। সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যজুড়ে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
৫ টাকায় মাছ-ভাত: অঙ্গীকার পূরণ দিলীপ ঘোষের
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন বিরোধীরা বারবার দাবি করেছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সামাজিক প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগের সরকারের কোনো প্রকল্পই বন্ধ হচ্ছে না, বরং সেগুলির মান আরও উন্নত করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, “মা ক্যান্টিনে এতদিন ৫ টাকায় ডিম-ভাত পাওয়া যেত, সেটি চালু থাকবে। তবে এখন থেকে সেই মেনুতে যোগ করা হচ্ছে মাছ। খাবারের পরিমাণও বাড়ানো হবে যাতে সাধারণ মানুষ পেটভরে খেতে পান।” মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন এবং দ্রুত এই নতুন মেনু কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজনীতির ময়দান থেকে গরিবের থালা
নির্বাচনের সময় ‘মাছ-ভাত’ ছিল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। তৃণমূল অভিযোগ তুলেছিল, বিজেপি নিরামিষাশী দল হওয়ায় বাঙালির মাছের থালায় টান পড়বে। পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বিজেপি নেতারা বলেছিলেন, বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ক্ষমতায় এসেই সেই কথা রাখল বিজেপি সরকার। বিধানসভায় শপথগ্রহণের দিন বিধায়কদের মেনুতে যেমন মাছ ছিল, এবার ঠিক তেমনি গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের পাতেও সেই মাছ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।
বেআইনি পার্কিংয়ে কোপ অগ্নিমিত্রা পালের
একদিকে যখন খাবারের থালায় সুখবর, অন্যদিকে শহরের যানজট কাটাতে কড়া অবস্থানে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বহু বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তার দু’পাশে বেআইনি পার্কিংয়ের জেরে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে নাভিশ্বাস উঠছিল। এবার সেই নৈরাজ্য বন্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অগ্নিমিত্রা পাল সাফ জানিয়েছেন, “পুরসভা ও নগরোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। সারা পশ্চিমবঙ্গে যেখানে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন আছে, সেখানেই গাড়ি থাকবে। রাস্তার মাঝখানে বা অবৈধ জায়গায় পার্কিং কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”
নতুন সরকারের এই দ্বিমুখী পরিকল্পনা— একদিকে সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্যদিকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রচেষ্টা— রাজ্যবাসীর মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মা ক্যান্টিনের মাছ-ভাত আর রাস্তার সুশৃঙ্খল পরিবেশ, এই দুইয়ের মেলবন্ধনে এক নতুন বাংলা গড়ার পথে সরকার, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





