৫৩ লক্ষ টাকার বাইকে ‘দাবাং’ মুডে দিলীপ ঘোষ! ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের ফাঁকে ভাইরাল বিজেপি নেতার নয়া রূপ

রাজনীতির ময়দানে বরাবরই ‘ডোন্ট কেয়ার’ মেজাজে পরিচিত বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রাতঃভ্রমণের সময়ও যে তিনি শিরোনামে থাকতে জানেন, তার আরও এক নজির মিলল বৃহস্পতিবার। ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে আচমকাই ৫৩ লক্ষ টাকার এক বিলাসবহুল বাইকে সওয়ার হয়ে সবাইকে চমকে দিলেন তিনি। সাদা টি-শার্ট ও শর্টস পরে দাবাং মেজাজে বাইক চালানোর সেই ভিডিও মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা দিলীপ ঘোষের এই ফুরফুরে মেজাজ ও বাইক চালানোর কায়দা বেশ উপভোগ করেছেন।
তবে প্রাতঃভ্রমণের খোশমেজাজ থেকে বেরিয়ে শুক্রবারই তিনি সুর চড়ালেন রাজনৈতিক ময়দানে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকার এখন ‘ভেঙে পড়ার দিকে’ এগোচ্ছে। দিলীপবাবুর অভিযোগ, তৃণমূলের অন্দরে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দুর্নীতি শিকড় গেড়েছে। তাঁর কথায়, “তৃণমূল নেতারা জনগণের টাকা লুঠ করে নিজেদের ভাগ্য ফিরিয়েছেন। এই টাকা গরিব মানুষের, যা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্প থেকে তছরুপ করা হয়েছে। তাঁদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা উচিত।”
সরকারি জনমুখী প্রকল্প এবং নাগরিকত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রথম শর্তই হলো ভারতীয় নাগরিক হওয়া। তিনি স্পষ্ট করেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো সুবিধা পেতে হলে নথিভুক্তিকরণ বাধ্যতামূলক। সিএএ (CAA)-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। যারা এই প্রক্রিয়া মেনে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করবেন না, তাঁদের সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ তুলে তিনি হরিণঘাটা ও মাদার ডেয়ারির উদাহরণ টেনে বলেন, কীভাবে লুটপাটের সুবিধার্থে একটি সফল সংস্থাকে ভেঙে টুকরো করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মাদার ডেয়ারি যা একসময় প্রতিদিন ছয় লক্ষ লিটার দুধ উৎপাদন করত, তা এখন মাত্র ৩০ হাজার লিটারে নেমে এসেছে। শুধুমাত্র চাকরি বিক্রি ও লুটপাটের জন্যই ‘বাংলা ডেয়ারি’র মতো নতুন সংস্থা তৈরি করা হয়েছে। এসবের পেছনে মন্ত্রী ও তাঁদের সহযোগীদের হাত রয়েছে।”
দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব ও বিলাসবহুল বাইক সওয়ারি—দুইই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। একদিকে তাঁর অনুগামীদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে বিরোধীদের নিশানা করেও তিনি নিজের রাজনৈতিক রণকৌশল স্পষ্ট করে দিচ্ছেন। রাজ্যের অন্দরে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি যে আইনি লড়াইয়ের বার্তা দিলেন, তা আগামী দিনে আরও জোরালো হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।