“৪ সপ্তাহ বন্ধ সব নির্মাণ কাজ!”-বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

তারাতলা বিপর্যয়ের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই বেআইনি নির্মাণ রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, কলকাতা পুরসভা এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আগামী চার সপ্তাহ পর্যন্ত সমস্ত নির্মীয়মাণ ভবনের কাজ বন্ধ থাকবে। দুর্নীতির প্রশ্নে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিয়ম না মানলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং কারাদণ্ড অবধারিত।
কোথায় কোথায় নির্মাণ কাজ বন্ধ? বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী চার সপ্তাহ পর্যন্ত শুধু জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত নির্মাণ কাজ ছাড়া বাকি সব কাজ স্থগিত থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে:
কলকাতা পুরসভা এলাকা।
রাজারহাট-নিউটাউন।
মহেশতলা, বজবজ ও পূজালি।
সোনারপুর ও বারুইপুর পুর এলাকা।
তদারকিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি নির্মাণকাজগুলোর সুরক্ষাবিধি এবং নকশা খতিয়ে দেখার জন্য আইএএস (IAS) রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে থাকছেন স্মিতা পাণ্ডে, রচনা ভগত, রাজেশ সিনহা, খলিল আহমেদ-সহ পূর্ত দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ডিজি (বিল্ডিং) এবং আইআইটি-র বিশেষজ্ঞরা।
কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী? বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সব বিল্ডিং প্ল্যান অডিট করানো হবে। এর আগে তৃণমূল জমানায় যে সমস্ত নকশা অনুমোদিত হয়েছিল, তার প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই কাজ শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যারা নিয়ম মেনে কাজ করছেন, তাঁরা সব যাচাইয়ের পর ১ অগাস্ট থেকে কাজ শুরু করতে পারবেন।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রতিটি প্রকল্পের প্ল্যান অডিট করা হবে। যদি তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্টদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারাতলা বিপর্যয়ের পর রাজ্যের এই কঠোর অবস্থান শহরের আবাসন খাতে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অবৈধ নির্মাণের জাল ছিঁড়ে শহরকে নিরাপদ করতে সরকার কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।