২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শেষ রবিবারের প্রচারে বাংলা এবং অসম—উভয় রাজ্যের জন্যই বড় রাজনৈতিক বোমা ফাটালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। উত্তরবঙ্গের মাদারিহাটে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে এসে হিমন্ত দাবি করলেন, বাংলায় এবার ২০০-র গণ্ডি পার করে সরকার গড়বে বিজেপি। একই সুর শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গলাতেও।
হিমন্তের ভবিষ্যদ্বাণী: ‘পরিবর্তন আসছেই’
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তার ঠিক আগেই বীরপাড়ার জনসভা থেকে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল হিমন্ত বিশ্ব শর্মার গলায়। তিনি বলেন:
টার্গেট ২০০: বাংলায় এবার গেরুয়া ঝড় উঠবে এবং বিজেপি এককভাবে ২০০-র বেশি আসন পাবে।
অসমের চিত্র: নিজের রাজ্যেও বিজেপি ১০০-র বেশি আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে বলে দাবি করেন তিনি।
উত্তরবঙ্গ কার্ড: হিমন্তের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার। চা বাগান থেকে শুরু করে পর্যটন ও কর্মসংস্থান—বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই অঞ্চলের ভোল বদলে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
পুরুলিয়া থেকে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: ‘৪ মে-র পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী’
অন্যদিকে, এদিন পুরুলিয়ার রায়বাঘিনী মাঠ থেকে তৃণমূল সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্নীতি এবং ‘কাটমানি’ ইস্যুকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
“আগামী ৪ মে-র পর তৃণমূল আর ফিরবে না। বাংলায় এবার ডাবল ইঞ্জিনের সরকার হবে। মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী—উভয়ই হবে বিজেপির। উন্নয়নের চাকা এবার দিন-রাত ঘুরবে।”
তৃণমূলের ‘জঙ্গল রাজ’ ও সিন্ডিকেট ইস্যু
প্রধানমন্ত্রী এদিন সরাসরি তোপ দেগে বলেন যে, তৃণমূলের শাসনে ‘মহা জঙ্গল রাজ’ চলছে। কাটমানি ছাড়া কোনো কাজ হয় না। এমনকি রেলের কাজেও রাজ্য সরকার বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদি আশ্বাস দেন, অসমে যেভাবে জনতা বিজেপির ওপর ভরসা রেখেছে, বাংলাতেও সিন্ডিকেট রাজ খতম করতে মানুষ বিজেপিকেই বেছে নেবে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে হিমন্ত এবং মোদির এই ‘আসন সংখ্যা’ ও ‘তারিখ’ উল্লেখ করে আক্রমণ যে বিরোধী শিবিরে চাপ বাড়াল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল—বিজেপির দুই শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে করা এই ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত ইভিএমে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই দেখার।





