টেবল টেনিসের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ৫-এ বাংলার মেয়ে! শিমলায় সোনা জিতে কী ‘সিক্রেট রেসিপি’ ফাঁস করলেন অঙ্কোলিকা?

বাংলার টেবল টেনিসের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের উদয়! ঐহিকা মুখোপাধ্যায় কিংবা সুতীর্থা মুখোপাধ্যায়ের সার্থক উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন নৈহাটির কিশোরী অঙ্কোলিকা চক্রবর্তী। শিমলায় আয়োজিত দক্ষিণ এশীয় যুব চ্যাম্পিয়নশিপে (South Asian Youth Championship) সিঙ্গলস ও মিক্সড ডাবলস—উভয় বিভাগেই পোডিয়ামের শীর্ষে শেষ করে বাজিমাত করেছেন তিনি।

সাফল্যের শিখরে অঙ্কোলিকা: এক নজরে পরিসংখ্যান

ইতিমধ্যেই ভারতের হয়ে মোট ৩৪টি আন্তর্জাতিক পদক পকেটে পুরেছেন এই তরুণী। বিশ্ব ক্রমপর্যায়েও তাঁর দাপট নজরকাড়া:

  • অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে: বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনি বর্তমানে ৫ নম্বরে

  • অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে: স্থান ২১-এ।

  • অনূর্ধ্ব-১৫ মিক্সড ডাবলস: বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ নম্বরে।

“দেড় বছরের মধ্যে সিনিয়র দলে খেলবই”

অঙ্কোলিকার আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। ইটিভি ভারতকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে ভারতের সিনিয়র দলে জায়গা করে নেওয়াই তাঁর পাখির চোখ। সতীর্থ সিন্ড্রেলা দাসকে হারানোর অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ফর্ম তাঁকে এই সাহস জোগাচ্ছে। দিনে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনিই তাঁর এই সাফল্যের ‘রেসিপি’।

পারিবারিক শোক ও লড়াইয়ের গল্প

অঙ্কোলিকার এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। গত বছর আচমকাই বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত শোক তাঁর প্যাডল থামিয়ে দিতে পারেনি, বরং ব্যাট ধরার হাত আরও শক্ত করেছে। কোচ প্রসেনজিৎ সরকার এবং তাপসী সরকারের এই প্রিয় ছাত্রী মনে করেন, সাফল্যের জন্য বিদেশি কোচ নয়, বরং দেশীয় কোচের অধীনে একাগ্রতা ও পরিশ্রমই যথেষ্ট।

আগামী লক্ষ্য

সামনেই মে মাসে ব্যাংককে ইউটিটি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং জুনে ওমানে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রত্যাশার চাপকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়েই বিদেশের মাটিতে ভারতের তেরঙ্গা ওড়াতে মরিয়া নৈহাটি সেন্ট লুকস ডে স্কুলের এই ছাত্রী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy