আফগানিস্তানে রবিবার রাতে ৬.০ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যাতে ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ২৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্প হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। গত ৫ বছরে এই অঞ্চলে ৩০টিরও বেশি ভূমিকম্প হয়েছে এবং ২০০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছেন।
এই অঞ্চল কেন এত ভূমিকম্প প্রবণ?
আফগানিস্তান-পাকিস্তান অঞ্চলটি ভূমিকম্পের জন্য খুবই সংবেদনশীল। এর প্রধান তিনটি কারণ হলো:
১. টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ: আফগানিস্তান এমন একটি স্থানে অবস্থিত, যেখানে ভারতীয় প্লেট এবং ইউরেশীয় প্লেট একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। ভারতীয় প্লেট ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে সরে যাচ্ছে এবং ইউরেশীয় প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। এই সংঘর্ষের ফলেই ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়। এই একই কারণে হিমালয় পর্বতমালার উচ্চতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
২. হিন্দুকুশ অঞ্চলের গভীরতা: আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে প্রায়ই গভীর ভূমিকম্প হয়। সাধারণত, গভীর ভূমিকম্পে ভূপৃষ্ঠে কম ক্ষতি হয়, কিন্তু যদি এর গভীরতা কম হয় (যেমন ১০-২০ কিমি), তাহলে তা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে।
৩. সক্রিয় ফল্ট লাইন: এই অঞ্চলে বেশ কিছু সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে, যেমন চামান ফল্ট, হরি রুড ফল্ট এবং পামির থ্রাস্ট ফল্ট। এই ফল্ট লাইন বরাবর টেকটোনিক গতিবিধি চলতে থাকে, যার ফলে ভূমিকম্প হয়।
গত ৫ বছরে এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা
২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান-পাকিস্তান অঞ্চলে বেশ কিছু বড় ভূমিকম্প হয়েছে। যেমন:
- ২০২১ সাল: এই বছরে দুটি বড় ভূমিকম্প হয়। একটি অক্টোবরে পাকিস্তানে, যেখানে ১৫ জন নিহত হন।
- ২০২২ সাল: এই বছর জুনে আফগানিস্তানে ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ১০০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
- ২০২৩ সাল: মার্চের শেষে আফগানিস্তানে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩ জন মারা যান। অক্টোবরেও একাধিক ভূমিকম্পে অনেক প্রাণহানি হয়।
- ২০২৪ সাল: এই বছরেও একাধিক মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।
- ২০২৫ সাল: এই বছরও বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষটি ১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ ভূমিকম্প, যেখানে ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান।