পুরী: অবশেষে কাটল দীর্ঘ ৪৮ বছরের প্রতীক্ষা। বুধবার বেলা ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উন্মোচিত হলো দ্বাদশ শতাব্দীর জগন্নাথ মন্দিরের সেই রহস্যময় রত্নভাণ্ডার। শুভক্ষণ মেনে শুরু হয়েছে মহাপ্রভুর ধনরত্নের তালিকা তৈরির কাজ, যা নিয়ে এখন গোটা দেশে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
৪৮ বছর পর ফিরছে ইতিহাস শেষবার ১৯৭৮ সালে রত্নভাণ্ডারের অলঙ্কার গণনা করা হয়েছিল। সেই সময় সেখানে ১২৮ কেজি সোনা এবং ২২১ কেজি রুপোর হদিশ মিলেছিল। প্রায় চার দশক পর আবারও সেই হিরে, জহরত ও মণিমাণিক্যের হিসাব মেলাতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। দুপুর ১২টা ৯ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে নির্দিষ্ট শুভ সময়ে শুরু হয় এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ডিজিটাল গণনা এবারের গণনা পদ্ধতিতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া:
-
ছটি বিশেষ বাক্স: সোনার গয়না হলুদ কাপড়ে, রুপোর গয়না সাদা কাপড়ে এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লাল কাপড়ে মুড়ে আলাদা আলাদা বাক্সে রাখা হচ্ছে।
-
ডিজিটাল নথি: প্রতিটি অলঙ্কারের উচ্চমানের ডিজিটাল ছবি তোলা হচ্ছে।
-
বিশেষজ্ঞ দল: গণনার কাজে উপস্থিত রয়েছেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) প্রতিনিধিরা, ২ জন রত্ন বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ সেবকরা।
ভক্তদের দর্শনে কি বাধা পড়বে? মন্দির কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, রত্নভাণ্ডার খোলার ফলে দৈনন্দিন পূজার্চনায় কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না। তবে নিরাপত্তার খাতিরে ‘ভিত্রা কথা’ এলাকায় ভক্তদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুণ্যার্থীরা ‘বহারা কথা’ বা মন্দিরের বাউন্ডারির বাইরে থেকে দর্শন করতে পারছেন।
কত সময় লাগবে এই প্রক্রিয়ায়? ১৯৭৮ সালে এই সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করতে সময় লেগেছিল দীর্ঘ ৭২ দিন। তবে এবার আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সরঞ্জামের সাহায্যে অনেক কম সময়েই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। রাজ্য সরকার অনুমোদিত বিশেষ SOP মেনেই রত্নভাণ্ডারের বাইরের ও ভিতরের কক্ষের অলঙ্কার যাচাই করা হচ্ছে।
পুরীর এই রত্নভাণ্ডারের ভেতরে ঠিক কতখানি সম্পদ লুকানো রয়েছে, তার সঠিক তথ্য জানতে এখন সময়ের অপেক্ষা। জগন্নাথ ভক্তদের জন্য এই দিনটি কেবল রাজকীয় নয়, বরং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।