৪৬ বছর পর বাড়ি ফিরল হারিয়ে যাওয়া ছেলে, পরিবারের পুনর্মিলন ঘটাল ‘SIR’-এর প্রযুক্তি

উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর জেলার খড্ডা ব্লকের শতিশ্বা গোপাল গ্রামে সদ্যই ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। দীর্ঘ ৪৬ বছর আগে পারিবারিক অশান্তির জেরে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া তায়াব আনসারি ফিরে এসেছেন তাঁর ভিটেমাটিতে, আর এই পুনর্মিলনের পিছনে রয়েছে এক প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া— SIR (সম্ভবত Systematic Identification of Records)।

অভিমান ভাঙল ৪৬ বছর পর:

সালটা ছিল ১৯৭৯। বাবা রিয়াসত আনসারি এবং ছোট ভাই সাইদের উপর রাগ করে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কিশোর তায়াব। এরপর কালের নিয়মে অনেক কিছু পাল্টেছে। বাবা প্রয়াত হয়েছেন, ছোট ভাই বিয়ে করে সংসারি হয়েছেন। তায়াব নিজেও বিহারের মেহরুনকে বিয়ে করে শ্যামলিতে নিজের সংসার পেতেছেন। এই ৪৬ বছরে পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট— ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঠিকানা বদলালেও, কুশীনগরের সেই গ্রামের প্রতি তাঁর টান এতটুকু কমেনি। তবে জেদের বশে তিনি আর কখনও বাড়ি ফেরেননি।

দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা ধরেই নিয়েছিলেন তায়াব আর বেঁচে নেই এবং তাঁর খোঁজ-তল্লাশিও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তায়াবও তাঁর গ্রামকে ভুলতে পারেননি। কিন্তু অভিমান আর জেদ তাঁকে বাড়িতে ফিরতে দেয়নি।

SIR যা ঘটালো:

ঠিক কী কারণে এই অসম্ভব সম্ভব হলো? জানা যায়, একটি SIR (Systematic Identification of Records) ফর্ম পূরণ করতে গিয়েই সমস্যায় পড়েন তায়াব। তাঁর বাবার নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিবেশীরা তাঁকে পরামর্শ দেন যে বর্তমান ভোটার তালিকার সঙ্গে রেকর্ড মেলাতে হলে তাঁকে অবশ্যই গ্রামে ফিরতে হবে।

কাজেই, ৪৬ বছর পর তায়াব পা রাখলেন তাঁর গ্রামে। গ্রামে প্রবেশ করে তিনি চমকে ওঠেন। তাঁর ফেলে যাওয়া কাঁচা বাড়ি এখন ঝকঝকে পাকা বাড়ি! গ্রামবাসীদের কাছে তিনি নিজের ছোট ভাই সাইদের খোঁজ নেন। সাইদ যখন প্রথমবার দাদাকে দেখলেন, তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল দাদা আর বেঁচে নেই। কিন্তু তায়াব যখন পুরনো সব স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন, তখন সাইদ চিনতে পারলেন তাঁর দাদাকে। সঙ্গে সঙ্গেই ছোট ভাই দৌড়ে গিয়ে দাদাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর দুই ভাইয়ের মিলনে চোখের জলে ভাসল চারিদিক। এভাবে প্রায় পাঁচ দশক পর বাড়ির ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিল প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি এই প্রক্রিয়া।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy