৪৪০ কোটির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ কাণ্ডে সরাসরি ইডি-র নজরে প্রাক্তন সাংসদ! তলব পেতেই কি বাড়ছে তৃণমূলের অস্বস্তি?

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত জটিল আইনি ও আর্থিক মামলায় এবার দলের সাবেক কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে সরাসরি তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে আগামী সপ্তাহেই নির্দিষ্ট দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত তৃণমূল আমলে দলীয় তহবিল থেকে হওয়া বেশ কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং ব্যাঙ্কে প্রেরিত চিঠির মাধ্যমে প্রাপ্ত নথিপত্রকে সামনে রেখেই এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। যদিও এই হাই-প্রোফাইল তলব ও ইডি নোটিশের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শুভাশিস চক্রবর্তীর তরফ থেকে কোনো রকম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এর আগে অরূপ বিশ্বাসের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টে ‘ডেবিট ফ্রিজ’ করেছিল। পরবর্তীতে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে ইডি ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করে এবং ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে থাকা সমস্ত আর্থিক লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে যে, সাম্প্রতিক অতীতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে অরূপ বিশ্বাসকে সরিয়ে সেই দায়িত্বে শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করেছিল দল। আর সেই প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ এবং তহবিল পরিচালনায় কোথায় গরমিল রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই তলব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, এই বিতর্কিত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলাটি ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে গড়িয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এর আগে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর জন্য অ্যাকাউন্টগুলির আংশিক ব্যবহারের অনুমতি দিলেও, সেগুলি পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আদালতের নিযুক্ত একজন স্পেশাল অফিসারের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের নজরদারিতে ওই ৩টি ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর পক্ষ থেকে ফের আবেদন জানানো হলেও, বিচারপতি কৃষ্ণ রাও সেই আবেদন স্পষ্টতই খারিজ করে দেন। আদালত জানিয়ে দেয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মামলার প্রক্রিয়ায় তাঁরা কোনো রকম অন্তর্বর্তীকালীন হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে ইডি-র ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোনো রকম টাকা তোলার বা লেনদেন করার পথ আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৭ তারিখে তৃণমূলের তহবিল সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। সেই অভিযানেই দলীয় তহবিল থেকে হওয়া অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে তিনটি প্রধান অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। কলকাতা হাইকোর্ট এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো রকম হস্তক্ষেপ না করায় শাসক দলের অস্বস্তি যে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন আগামী সপ্তাহে ইডি দপ্তরে শুভাশিস চক্রবর্তীর হাজিরা এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জেরার মুখে তিনি কী তথ্য দেন, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।