৪৩দিন পর বাড়িতে ফিরল মহেশতলায় নির্যাতিত সেই কিশোর! এতদিন কোথায় ছিল?

মাস দেড়েক আগে একটি ভয়াবহ ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল গোটা বাংলা। তাতে দেখা যায়— চুরির সন্দেহে এক কিশোরকে উলটো করে ঝুলিয়ে বিদ্যুতের শক দেওয়া হচ্ছে। ঘটনা মহেশতলার, আর নির্যাতনের দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছিল সাধারণ মানুষ থেকে মানবাধিকার কর্মীরা। ৩০ মে-র সেই ঘটনার পরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল— কোথায় গেল ওই কিশোর?

অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, সে হয়তো গুম বা খুন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফিরে এল সেই ১৪ বছরের কিশোর— জীবিত, তবে নিশ্চয়ই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।

ঘটনার ৪৩ দিন পর, ইসলামপুরের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাড়িতে ফেরে কিশোরটি। তার হঠাৎ ফিরে আসা পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে স্বস্তি ও বিস্ময়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরটি তার দাদার সঙ্গে সন্তোষপুরের একটি জিন্স কারখানায় কাজ করতে গিয়েছিল। সেখানেই ঘটে ভয়াবহ সেই নির্যাতনের ঘটনা। ঘটনার পরপরই মূল অভিযুক্ত শাহেনশাহকে মুম্বই থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ, কিন্তু কিশোরের খোঁজ মেলেনি এতদিন।

যদিও কিশোর এখনো মুখ খুলেনি ঠিক কী হয়েছিল, তবে তার এক আত্মীয় দাবি করেছেন— আটকে রেখে জোর করে ঘরের কাজ করানো হচ্ছিল তাকে। কোনওভাবে সেখান থেকে পালিয়ে নিজেই ফিরে আসে নিজের গ্রামে।

এখন অনেকেই জানতে চাইছেন— এই দীর্ঘ সময় সে কী অবস্থায় ছিল, কাদের হেফাজতে ছিল, আর কীভাবে সে পালিয়ে ফিরল?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরের ফিরে আসার খবর পেয়েই তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হতে পারে। গোটা ঘটনার পিছনে আরও কেউ জড়িত ছিল কিনা— তাও খতিয়ে দেখা হবে।

ছেলের ফিরে আসায় পরিবারে যেমন স্বস্তি, তেমনই সমাজে উঠছে একাধিক প্রশ্ন—

এতদিন প্রশাসন কেন কিশোরের হদিস দিতে পারেনি?

শ্রমিক হিসেবে কিশোরদের নিয়োগ কীভাবে চলছিল?

নির্যাতনের পর কেন এতটা সময় লাগল ফিরতে?

এই ঘটনায় ফের একবার আলোচনায় এসেছে শিশু শ্রম, অপরাধমূলক নির্যাতন এবং মানবাধিকারের বিষয়গুলি। কিশোর এখন বাড়ি ফিরলেও, তার উপর হওয়া নির্মম অত্যাচার এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে যে তদন্তের দরকার, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy