৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চ সাক্ষী রইল নারীশক্তির এক অনন্য উদযাপনের। এবারের অস্কারে একদিকে যেমন ৭৫ বছর বয়সী অ্যামি ম্যাডিগানের ৪০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে, তেমনই আইরিশ অভিনেত্রী জেসি বাকলি মাতৃত্ব ও নারীর সংগ্রামের জয়গান গেয়েছেন। সেই সঙ্গে সিনেমাটোগ্রাফির মতো পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের ক্ষেত্রে অটাম ডুরাল্ড আরকাপা অস্কার জিতে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।
অটাম ডুরাল্ড আরকাপা: সিনেমার চিত্রগ্রহণে নারীরা যে সমান দক্ষ, তা আবারও প্রমাণ করলেন অটাম। ‘সিনার্স’ সিনেমার জন্য সেরা সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে অস্কার জিতে তিনি প্রমাণ করলেন, ক্যামেরা ও লাইটের দুনিয়া এখন আর কেবল পুরুষদের কুক্ষিগত নয়। ব়্যাচেল মরিশন বা নতাশা ব্রেইয়ারের মতো অগ্রজদের পথ ধরে তিনি প্রথম মহিলা হিসেবে এই বিভাগে অস্কার জয়ের ইতিহাস গড়লেন।
জেসি বাকলি: ‘হ্যামনেট’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতা জেসি বাকলি অস্কারটি উৎসর্গ করেছেন বিশ্বের প্রতিটি মাকে। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, মাতৃত্ব কোনোভাবেই স্বপ্নের পথে বাধা নয়। স্বামী ফ্রেডি সোরেনসেন ও তাঁর বাবা-মাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এদিন মা দিবসের আবহে নারী-বংশধারার অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।
অ্যামি ম্যাডিগান: দীর্ঘ ৪০ বছরের পথচলা। ১৯৮৬ সালে প্রথম মনোনয়নের পর অবশেষে ৭৫ বছর বয়সে জ্যাক ক্রেগারের ‘উইপনস’ ছবির জন্য ‘সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী’র পুরস্কার পেলেন অ্যামি। তাঁর এই জয় বিনোদন জগতে এক অনুপ্রেরণামূলক ইতিহাস হয়ে রইল। স্বামী এড হ্যারিস, পরিচালক এবং নিজের পরিবারকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি মঞ্চে এক আবেগময় মুহূর্ত উপহার দিলেন।
বিশ্বমঞ্চে এই তিন নারীর জয়গান প্রমাণ করল— অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স বা প্রতিকূলতা কোনোটিই সাফল্যের পথে অন্তরায় হতে পারে না।