৪০ ফুট গভীর কুয়ো যেন মরণফাঁদ! অনুষ্ঠান সেরে ফেরার পথে নিভে গেল ৯টি প্রাণ, নাসিকের দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ দেশ

সময় বাঁচাতে গিয়ে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত কেড়ে নিল ৯টি তাজা প্রাণ। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার দিন্ডোরি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় ৬টি নাবালকসহ একই পরিবারের ৯ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আনন্দ অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে এই বিপর্যয়।

কীভাবে ঘটল এই অভিশপ্ত দুর্ঘটনা?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী:

  • অনুষ্ঠান থেকে প্রত্যাবর্তন: পরিবারটি দিন্ডোরি এলাকার একটি কোচিং সেন্টারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে নিজেদের বাড়িতে ফেরার জন্য রওনা দেন তাঁরা।

  • শর্টকাট ও নিয়ন্ত্রণ হারানো: সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল চালকের। মূল রাস্তা ছেড়ে তাড়াতাড়ি পৌঁছানোর জন্য তিনি একটি ‘শর্টকাট’ রাস্তা বেছে নেন। অন্ধকার রাস্তায় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার ধারের একটি কুয়োয় ধাক্কা মেরে উল্টে পড়ে।

  • গভীর কুয়োর মরণফাঁদ: কুয়োটি ছিল প্রায় ৪০ ফুট গভীর এবং জলে পূর্ণ। গাড়িটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরোহীরা ভেতরে আটকে পড়েন। স্থানীয়রা এবং দমকল বাহিনী পৌঁছানোর আগেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় সকলের। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় কুয়োর গভীর জল থেকে একে একে ৯টি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতদের পরিচয়

মৃতদের মধ্যে ৬ জনই নাবালক, যাদের বয়স ৭ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। পরিবারের এক সদস্যের চালিত এই গাড়িতে খুদেদের নিয়ে ফেরার পথে এমন পরিণতিতে গোটা এলাকায় হাহাকার পড়ে গিয়েছে। একটি শিশুর দেহ গাড়ির বাইরে থেকে উদ্ধার হলেও বাকিরা গাড়ির ভেতরেই আটকে ছিলেন।

অতীতের স্মৃতি ও সতর্কতা

মহারাষ্ট্রে এই ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। গত অক্টোবরেও নন্দুরবার জেলায় মন্দির দর্শন সেরে ফেরার পথে একটি মিনি ট্রাক ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে ৮ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। নাসিকের এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল যে, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বা অপরিচিত শর্টকাট রাস্তায় বেপরোয়া গতি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy